বেতন পায়নি মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ৬শ শ্রমিক


প্রকাশিত: ০১:৫০ পিএম, ০৫ জুলাই ২০১৬

ঝিনাইদহের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি অবস্থিত কালীগঞ্জ শহরে। ১৯৬৮ সালে আখ মাড়ায়ের মধ্য দিয়ে প্রথম যাত্রা শুরু হওয়া এ মিলটির পুঞ্জিভূত দেনা রয়েছে বর্তমানে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। বছরের পর বছর লোকসানে থাকায় আজ এই ঐতিয্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। বর্তমানে মিল কর্তৃপক্ষসহ বেশিরভাগ কর্মকর্তাই দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উৎপাদিত চিনি মিলগেটে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ ও ৫২ টাকা কেজি দরে কিন্তু। ডিলাররা এ চিনি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে ৬২ টাকা দরে। এক কেজি চিনি মিলের কাছ থেকে ক্রয় করে ১৪ টাকা বেশি মুনাফায় বিক্রি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুন মাসের বেতন না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে মিলের ৬শ শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। ২০১৪-২০১৫ সালের আখ মাড়াই মৌসুমে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন থাকলেও উৎপাদন হয় ৪ হাজার দুইশত ৩৫ মেট্রিক টন।

Jhenaidah-Sugar-Mill

সর্বশেষ ২০১৫-২০১৬ সালের মাড়াই মৌসুমে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে ৪ হাজার ১২০ মেট্রিক টন তবে উৎপাদন করে ৪ হাজার একশত ২৫ মেট্রিক টন।

গত দুই মাড়াই মৌসুমে উৎপাদিত ৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন চিনির প্রায় সবই অবিক্রিত রয়েছে। বর্তমানে মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ৪৫ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকা কালীগঞ্জের বিশিষ্ট চিনি ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, মিলের তালিকাভুক্ত ডিলার আছে প্রায় ৮০০ জন। স্থানীয় ঝিনাইদহ জেলায় আছে মাত্র ২২ জনের মতো। মিল গেটে চিনির কেজি ৪৮ টাকা হলে একজন ডিলার চিনি পায় মাত্র এক টন। তবে তালিকাভুক্ত ডিলাররা ৪৮ টাকা কেজি দরেই মিলগেট থেকে চিনি উত্তোলন করে বলে এই ব্যবসায়ী জানান।

Jhenaidah-Sugar-Mill

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, আমরা হেড অফিসের নির্দেশে স্থানীয় ডিলারদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে চিনি বিক্রি করছি।

উলে­খ্য, ১৯৬৫ সালে হল্যান্ডের স্টর্ক ওয়ার্কস পুওর কোম্পানির নির্মাণকৃত মিলটির প্রতিদিন মাড়াই ক্ষমতা ১৫০০ মেট্রিক টন। ১৮৯.৪০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই মিলটি প্রথম পরীক্ষামূলক মাড়াই মৌসুম শুরু হয় ১৯৬৭-৬৮ সালে।

এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।