মৌলিক অধিকার নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি চান হিজড়ারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনি ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ চায় তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে রংপুরের তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) জনগোষ্ঠী। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ চান তারা।

রংপুরের হিজড়া জনগোষ্ঠীর একজন শহীদ হোসেন শ্রাবণ জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘একজন নারীকে কেউ ইভটিজিং বা শ্লীলতাহানি করলে তিনি নির্দিষ্ট আইনের ধারায় মামলা করতে পারেন। কিন্তু হিজড়াকে সেই অপরাধে মামলা করতে গেলে আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট আইনের ধারা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে থাকা উচিত বলে মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট কোটা সংরক্ষণ, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং প্রতিটি হাসপাতালে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গঠন, পৈতৃক সম্পত্তিতে অধিকার নিশ্চিত করাসহ মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিতে সুনির্দিষ্টভাবে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিশ্রুতি চাই। কিন্তু দুঃখজনক যে, এ বিষয়ে কেবল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে দায় সারছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আমরা এভাবে চাই না। আমরা চাই আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্টভাবে অঙ্গীকার আসুক।’

তৃতীয় লিঙ্গের সুইটি সরকার বলেন, ‘২০১৩ সালে আমরা স্বীকৃতি পেলেও আমাদের জীবনমানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই হবে না, আমাদের পেটের ভাত ও সম্মানের নিশ্চয়তা দিতে হবে। কেবল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে নয়, হিজড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে আমাদের যে মৌলিক অধিকার, তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার চাই আমরা।’

মৌলিক অধিকার নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি চান হিজড়ারা

দোলা আক্তার বলেন, “কেবল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের মৌলিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।”

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রংপুর জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘আমাদের সমাজে অনেকগুলো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে হিজড়া একটি জনগোষ্ঠী। এদের স্বীকৃতি থাকলেও অধিকার নেই। এখনো সমাজের মূল ধারা থেকে তারা অনেক পিছিয়ে। কেবল স্বীকৃতি দিয়েই শেষ নয়, অধিকার নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তাদের যে আহ্বান, সেটা অত্যন্ত যৌক্তিক বলে মনে করছি।

রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় মোট হিজড়ার সংখ্যা প্রায় চারশ। এরমধ্যে ভোটার হয়েছেন ৩১ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে মানবেতর জীবন পার করছেন। তাদের নেই আবাসনের সুব্যবস্থা। শিক্ষা-চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও আইনগত সহায়তা থেকেও তারা বঞ্চিত।

জিতু কবীর/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।