কুড়িগ্রাম-৪
নীরব প্রচারণায় ভোটার টানাই বড় চ্যালেঞ্জ
কুড়িগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনে বদলে গেছে প্রচারণার চিত্র। বড় পোস্টার, রঙিন ব্যানার কিংবা দেওয়াল লিখনের পরিবর্তে এবার প্রার্থীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলায় জোর দিচ্ছেন। অতীতের ভোটার উপস্থিতির ওঠানামা দেখিয়ে দিচ্ছে। এ আসনে ভোটার টানাটানি মূলত বিজয়ের চাবিকাঠি।
নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন এক লাখ ৫৪ হাজার ৩৯১ জন। বিজয়ী প্রার্থী পান মোট ভোটের প্রায় ৪০ শতাংশ। ২০০৮ সালের নবম নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫১২ জনে, যেখানে বিজয়ী প্রার্থী পান ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।
২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে ভোটদানের হার বড় ধরনের ধস নামে। মাত্র ৫৯ হাজার ৫১৪ ভোটার ভোট দেন এবং বিজয়ী প্রার্থী পান ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে ভোট পড়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৯, তখন বিজয়ী প্রার্থী পান ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে আবারও ভোটার উপস্থিতি কমে দাঁড়ায় এক লাখ ৫৬ হাজার ৬২১ জনে এবং বিজয়ী প্রার্থী পান ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট।
এ পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ভোটার উপস্থিতি রাজনৈতিক পরিবেশ ও অংশগ্রহণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
এবার এ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বালতি প্রতীকে মো. রুকুনুজ্জামান, ধানের শীষ প্রতীকে মো. আজিজুর রহমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. মোস্তাফিজুর রহমান, হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা হাফিজুর রহমান, লাঙল প্রতীকে কে এম ফজলুল মণ্ডল, মই প্রতীকে আব্দুল খালেক এবং কাঁচি প্রতীকে রাজু আহম্মেদ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রচারণা কার্যত ‘পোস্টারহীন’। বড় পোস্টার বা ব্যানার নেই বললেই চলে। প্রার্থীরা ছোট ছোট উঠান বৈঠক, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ও ঘরোয়া আলাপচারিতায় ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
এ আসনে রাজনৈতিক দলীয় ৬ জন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। ভোটারদের কেন্দ্রে আনাটাই এখন প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় ভোটার মাজেদা বেগম, এখলাস হোসেন ও আব্দুল জব্বার বলেন, পোস্টার কম, কিন্তু প্রার্থীরা ঘরে এসে কথা বলছেন। আগে শুধু স্লোগান শুনতাম, এখন সরাসরি প্রশ্ন করতে পারছি। তবে ভোটের তেমন আমেজ নেই।
রোকনুজ্জামান মানু/আরএইচ/জেআইএম
