নোয়াখালী-২
৩৩ নেতাকে বহিষ্কারেও ‘কূলে ভেড়ানো যাচ্ছে না’ বিএনপিকে
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের আবেদনে দলের অন্তত ৩৩ জন নেতাকে বহিষ্কার করেও ‘কূলে ভিড়ানো যাচ্ছে না’ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। বেশিভাগ নেতা দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সোনাইমুড়ী বিএনপির আরও চার নেতাকে বহিষ্কারের চিঠি এসেছে জাগো নিউজের হাতে। বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের বাহিষ্কারের চিঠি দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বহিষ্কৃতরা হলেন- সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ মাসুদ, সদস্য মোহাম্মদ নুরুল আমিন স্বপন ও সাখাওয়াত হোসেন সাকু ও অম্বরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. শাহজালাল।
চিঠিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য উল্লেখিত নেতাদেরকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এসব নেতারা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আমার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন উঠান বৈঠকসহ নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। এতে বিএনপির মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তাই উক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ বহিস্কারের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
এর আগে একই অভিযোগে গত ৩১ জানুয়ারি সেনবাগ কৃষকদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। তারা হলেন- ডমুরুয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক রসুল আমিন, কাদরা ইউনিয়নের সদস্যসচিব আবুল বাশার, অর্জুনতলা ইউনিয়নের সদস্যসচিব বেলাল হোসেন, বীজবাগ ইউনিয়নের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন ও নবীপুর ইউনিয়নের সদস্যসচিব আহছান উল্যাহ।
গত ২৯ জানুয়ারি সেনবাগ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ভিডি মফিজুল ইসলামকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত ২৮ জানুয়ারি একই অভিযোগে সেনবাগ উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১৮ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তারা হলেন- সেনবাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, ড. সৈয়দ নজরুল ইসলাম ফারুক, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত লিটন, মমিন উল্লাহ চেয়ারম্যান, মির্জা মো. সোলাইমান, মোয়াজ্জেম হোসেন সেলিম, গোলাম হোসেন খোন্দকার, উপজেলা বিএনপির সদস্য ওবায়দুল হক চেয়ারম্যান, আবুল কালাম আজাদ, নুরুজ্জামান চৌধুরী, আবু জাহের চৌধুরী জাফর, শাহেদুল করিম মারুফ, মাস্টার দলিলুর রহমান এবং সেনবাগ পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বাবলু, রেজাউল হক হেলাল, তাজুল ইসলাম রতন, পৌর বিএনপির সদস্য মহিন উদ্দিন কমিশনার ও শহীদ উল্যা হেলাল।
গত ৯ জানুয়ারি একই অভিযোগে সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোলেমান রাজু ও ওমর ফারুক শাকিল, সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন এবং সেনবাগ পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়ালিদ আদনানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বীজবাগ সুলতান মাহমুদ ডিগ্রি কলেজের সভাপতি তানভীর তারেক জয়ের পদ স্থগিত ও কানকিরহাট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) কাজী মফিজুর রহমান বলেন, এবার নির্বাচনে আমার পক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসনটি আমার নেতা তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়টি দলের কেন্দ্র থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এমএন/জেআইএম