ঈদ নেই এসি রবিউলের পরিবারে
ঈদের আনন্দ নেই গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিমের পরিবারে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রামের বাড়িতে এখনো চলছে শোকের মাতম।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কাটিগ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রবিউরের মা, দাদি ও স্ত্রী কান্নাকাটি করছে। তাদের স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন আত্বীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। কাকার হাত ধরে কাটিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন রবিউলের ছেলে সামি (৫)। এরপর কাকা মো. সামসুজ্জামানের সঙ্গে বাবার কবর জিয়ারত করেন। তাদের সঙ্গে অংশ নেন রবিউলের বন্ধু, আত্মীয়, গ্রামবাসী। সবাই তার আত্মার মাখফেরাত কামনা করেন।
রবিউলের ভাই মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রত্যেক বছর ঈদে দুই ভাই একত্রে বাড়িতে আসি। এবারো তেমনটিই হওয়ার কথা ছিলো।কিন্তু ভাই ছাড়াই আমাকে গ্রামে আসতে হলো। আমার ভাই আর কোনো দিন আসবে না। এসময় কাকার কোলে ছিলো সামি। ঈদে কি করলে আজকে ? জানতে চাইলে সামি জানায়, নামাজ শেষে বাবার জন্য দেয়া করেছি।
রবিউলের ছোট বেলার বন্ধু, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন সেলিম জানান, ঈদ গাঁ মাঠের মিনারটি রবিউল দাঁড়িয়ে থেকে তৈরি করেছিলো। ঈদগা মাঠের পাশে ওর হাসিমাখা মুখখানি দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতি পারেননি তিনি। রবিউলের সঙ্গে তার নানা স্মতিচারণ করার সময় দুচোখ বেড়ে অশ্রু ঝড়ছিলো সেলিমের।
রবিউলের আরেক বন্ধু ফরিদপুর আইনুদ্দিন সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইউনূছ আলী বলেন, রবিউল পুরো গ্রামের মানুষকে শোকাহত করে গেছে। তার ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। স্বান্তনা শুধু এটাই আমাদের রবিউল এখন জাতীয় বীর। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সে জীবন দিয়েছে। রবিউল আমাদের গর্ব।
এদিকে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর কোনো স্বান্তনাতেই থামছে না রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমার কান্না। রবিউল করিম ছাড়া প্রথম ঈদের প্রসঙ্গ তুলতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন সালমা।
বলেন, ছেলেটা বলছে মা ঈদে কি আমাদের আর কখনো আনন্দ হবে না। বাবার আদর পায় না বলে ও আর কারো আদর সহ্য করতে পারছে না। বিরক্ত মনে করে। একা একা থাকতে চায়।
সালমা বলেন, রবিউল বলেছিলো ঈদে যদি আগে ছুটি না পাই তাহলে নামাজ পড়ে গ্রামে যাবো বাবার কবর জিয়ারত করতে। অথচ আজকে সবাই ওর কবর জিয়ারত করছে। ঘর বোঝাই ওর জিনিস পত্র। সেগুলো দেখে কি আর ঠিক থাকা যায়, বলেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন সালমা।
তিনি বলেন, সামি (রবিউলের ছেলে) বাবাকে দেখেছে, আদর সোহাগ পেয়েছে। কিন্তু আমার অনাগত সন্তান সে তো কখনো তার বাবাকে পাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এসি রবিউলের পরিবারের জন্য ঈদ উপহার আসে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার নূরে আলম সিদ্দিকী এই উপহার সামগ্রী তুলে দেন রবিউলের মা ও স্ত্রীর হাতে।
উপহারের মধ্যে রয়েছে, তিন লাখ টাকার চেক, রবিউলের ছেলের জন্য একটি ছোট খেলনা মোটরসাইকেল, জামা-কাপড়, মা ও স্ত্রীর জন্য কাপড়। এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বি.এম খোরশেদ/ এমএএস/পিআর