বাগেরহাটে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুই দিনে একজন নিহত, আহত ৯০

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাগেরহাটে নির্বাচন পরবর্তী দুইদিনে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর একজন সমর্থক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৯০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

জানা যায়, ভোটের আগে থেকেই বাগেরহাট সদর ও কচুয়া এলাকায় বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ভোট পরবর্তী সময়ে যা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী দুই দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০টি সংঘাতে অন্তত ৯০ জন আহত হয়েছে।

এছাড়া সদর উপজেলার মান্দ্রা গ্রামে পাল্টাপাল্টি হামলায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের ১৪টি বসতবাড়ি ও শরণখোলা-মোরেলগঞ্জে ৬টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ৬ জন ও শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাগেরহাটে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুই দিনে একজন নিহত, আহত ৯০

সবশেষ শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের আরপাড়া এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য পপলু সরদার, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগর, জামায়াতের মুজাহিদসহ কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভোটের আগের রাতেও এই এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পারনওয়াপাড়া ও কচুয়া উপজেলার ছিটাবাড়ি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের ও বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ওসমান সরদার নামের এক যুবক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত ওসমান সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে। বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করেন ওসমান। তার চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

বাগেরহাটে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুই দিনে একজন নিহত, আহত ৯০

সংঘর্ষের সময় আহত একই গ্রামের ইমরান সরদার বলেন, শুক্রবার বিকেলে পশ্চিম পারনওয়াপাড়ার বিএনপি নেতা শহিদুলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন দা, লাঠিসোঁটা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কারা ঘোড়া প্রতীকে ভোট দিয়েছে, তাদের খুঁজতে থাকেন। যাকে সামনে পান, তাকেই মারধর করেন। একপর্যায়ে গ্রামবাসী মিলে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আমি, ওসমানসহ অনেকে আহত হই।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, পাড়নওয়াপাড়া ও ছিটাবাড়ি এলাকায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের পুলিশ শনাক্ত করেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

বাগেহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ আসছে। সংঘর্ষ-ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত আছে। নিজের কর্মীদের শান্ত রাখার জন্য সকল প্রার্থীর সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই, প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

নাহিদ ফরাজী/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।