কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও-বিক্ষোভ
ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় নূরুল্লাহ শাওন (২৫) নিহতের ঘটনায় পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে এসপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। নিহত শিক্ষার্থী আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’—এমন সব স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর একজনকে ধরে নাম-ঠিকানাসহ পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হলেও আসামিদের গ্রেফতারে প্রশাসন কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে খুনিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও পুলিশের গাফিলতি রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বিক্ষোভের মুখে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে এসে রাত ৮টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাওন ও তার বন্ধু রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে বেড়াতে যান। সন্ধ্যায় অন্তত সাতজনের একটি কিশোর গ্যাং তাদের ঘিরে ধরে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। প্রতিবাদ করায় তাদের মারধর করা হলে দুই বন্ধু প্রাণভয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। রিয়াদ সাঁতরে নদ পার হতে পারলেও শাওনের কোনো খোঁজ মেলেনি। পরে নিখোঁজের তিন দিন পর শুক্রবার রাতে নদ থেকে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চরজাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় শাওনের মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন, যেখানে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/কেএইচকে/এমএস