বেড়িবাঁধের গাছ কর্তনের ঘটনায় চুরির মামলা, পদ হারালেন সেই বিএনপি নেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বেড়িবাঁধের গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। ইনসেটে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা ১২টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলাটি করেন। মামলায় আঙ্গুর মিয়া নামের একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশ্যে দিবালোকে গাছ কেটে ফেলা হলেও চুরির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ঘটনা ও প্রকৃত দোষীকে আড়াল করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বেড়িবাঁধের গাছ কর্তনের ঘটনায় চুরির মামলা, পদ হারালেন সেই বিএনপি নেতা

এদিকে এ ঘটনায় মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‌‘ঘটনা জানার পর ’স মিলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আঙ্গুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি গাছগুলো মিলে নিয়ে এসেছিলেন। তাই তাকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছি।’

দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গাছ কেটে নেওয়া হলেও চুরির অভিযোগে কেন মামলা করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়েতো আমার অভিজ্ঞতা নেই। তারাই (পুলিশ) তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন কেন এটা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞেস করতে পারলে জানা যেত আর কে কে জড়িত। এখন পুলিশ খুঁজে বের করবে কার নির্দেশে আঙ্গুর মিয়া এ কাজ করেছেন। আঙ্গুর মিয়া যদি অ্যারেস্ট হয়ে যায়, পুলিশ ধইরা বাড়ি দিলেইতো ধুমধাম বের হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার গাড়ি প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা, কাটা হলো বেড়িবাঁধের ২০ গাছ

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে একজনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন। মামলাটি তদন্ত চলমান।

বেড়িবাঁধের গাছ কর্তনের ঘটনায় চুরির মামলা, পদ হারালেন সেই বিএনপি নেতা

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য থাকাকালীন এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে বেড়িবাঁধে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই গাছগুলো এলাকার পরিবেশ ও বাঁধ রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখে আসছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু করেন। সবশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০-১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের বাজারমূল্য ২০-২৫ হাজার টাকা।

তারা জানান, বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গুঁড়ি কেটে ফেলা হয়। পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি কাটবো কেন? আমার দরকার আছে কাটার? আন্তাজি (অনুমান) আলাপ করে। জায়গা ও গাছগুলো সরকারি না। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ সরকারি না, অধিগ্রহণকৃতও না।’

এসকে রাসেল/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।