ঈদযাত্রা
ট্রেনবহরে যোগ হবে অতিরিক্ত ১০০ কোচ, চলছে মেরামতের কাজ
ঈদকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলাতে রেকর্ড সংখ্যক রেলকোচ মেরামত করা হচ্ছে দেশের বৃহত্তর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকট সত্ত্বেও এবার ১০০টি কোচ মেরামত হচ্ছে। এসব কোচ বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনবহরে জুড়ে দেওয়া হবে। ফলে এবার ট্রেনে অধিকসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার ২৬টি শপের শ্রমিকদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। নির্ধারিত আট ঘণ্টা কাজের পরে অতিরিক্ত সময় দিচ্ছেন তারা। এমনকি শুক্রবারেও ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। এরইমধ্যে প্রস্তুত হওয়া ৫৮টি রেলকোচ চলে গেছে পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে বাকি রেলকোচগুলো হস্তান্তর করা হবে আশা কর্তৃপক্ষের।
ক্যারেজ শপের শ্রমিক আবু সুফিয়ান, নজরুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর দুই ঈদেই ক্যারেজ মেরামতের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী সবাই মিলে কাজ করছেন। এতেই আমাদের ঈদ আনন্দ।’
রেলওয়ে কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই) মোমিনুল ইসলাম জানান, আসাম-বেঙ্গল রেলপথ ঘিরে ১৮৭০ সালে স্থাপিত হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। ১১০ দশমিক ২৯ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত কারখানাটিতে রয়েছে ২৯টি শপ। এখানে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ ও মালবাহী যানের মেরামত কাজ করা হয়।

বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কারখানার বেশিরভাগ শপ অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের পদ সংখ্যা দুই হাজার ৮৫৯টি। এরমধ্যে মাত্র ৭১০ জন কর্মরত। জনবল সংকটের কারণে কারখানায় ক্যারেজ মেরামতের প্রতিদিনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে এবার ১০০টি রেলকোচ মেরামত করে রেলের পরিবহন বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় জনবল সংকট, বাজেট স্বল্পতা, উপকরণ সরবরাহসহ নানা সমস্যার মধ্যেও এবারের ঈদযাত্রায় কারখানা থেকে ১০০টি রেলকোচ সংযুক্ত করা হবে। এর মধ্যে ৬৬টি ব্রডগেজ ও ৩৪টি মিটারগেজ। তবে কোচ মেরামতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’
তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমরা বাকি রেলকোচ মেরামত করে সরবরাহ করতে পারবো।
আমিরুল হক/এসআর/এমএস