বগুড়া
এলাকা-দোকান ভেদে ইফতার সামগ্রীর দামে দ্বিগুণ ফারাক
পবিত্র রমজান ঘিরে বগুড়া শহরের ইফতার বাজারে বৈচিত্র্যময় চিত্র ফুটে উঠেছে। একই ইফতার সামগ্রী হলেও এলাকা, দোকান এবং প্রতিষ্ঠানের নামের ভারে দামের ক্ষেত্রে বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে। কোথাও ১৬০ টাকায় ইফতার মিললেও একই পদের জন্য কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ২৫০ টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শহরের প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজার ফতেহ আলী বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে। ফতেহ আলী বাজারের আবুল হোটেলের স্বত্বাধিকারী মো. শাজাহান জানান, তার দোকানে বুট, বুন্দিয়া, পেঁয়াজি, বেগুনি, ডালঝুড়ি ও সরভাজা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এ ছাড়া গুড় ও চিনির জিলিপি ১৪০ টাকা এবং তিলের জিলিপি ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শহরের চৌকি পট্টি এলাকাতেও প্রায় একই দামে ১৬০ টাকা কেজিতে মিলছে সব পদ।
তবে শহরের কাঁঠালতলা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানকার শাহ আলমের দোকানে বুট, বুন্দিয়া, পিয়াজি, বেগুনি ও সরভাজা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। দামের এই পার্থক্যের পেছনে উপকরণের মানকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

শাহিন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, কেউ বেসনের চানাচুর করে, আবার কেউ ময়দা ব্যবহার করে। উপাদানের ভিন্নতার কারণেই দামের এই কম-বেশি। সেখানকার ব্যবসায়ীদের দাবি, আটা ও তেলের ব্যবহার কম-বেশি হওয়ার কারণে বাজারে দামের এই ফারাক তৈরি হয়।
দামের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে শহরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেলে। এখানে বুট ২০০ টাকা কেজি হলেও বুন্দিয়া, পেঁয়াজি, বেগুনি, ডাল ঝুড়ি, সরভাজা এবং জিলিপির দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা।

আকবরিয়া রোস্তোরাঁর ম্যানেজার কাওসার বলেন, আকবরিয়া একটি ব্র্যান্ড। শত বছরের বেশি সময় ধরে আমরা মানের বিষয়ে কোনো আপস করিনি। আমাদের ইফতারি অত্যন্ত মানসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি, তাই দামের এই পার্থক্য।
আকবরিয়াতে এবারও সাধারণ ইফতারির বাইরে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী ও শাহী আয়োজন। প্রায় ৫৩ ধরনের ইফতার সামগ্রী সাজানো হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে আস্ত মুরগির গ্রিল ৫২০ টাকা, প্রতি পিস ১৩০ টাকা, আস্ত কবুতর ২০০ টাকা এবং খাসির লেগ রোস্ট বিক্রি হচ্ছে ৩৭৫ টাকায়।

সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, একই শহরে ইফতারের মূল উপকরণগুলোর দামে কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকার ব্যবধান মেনে নেওয়া কঠিন। ফতেহ আলী বাজারে ইফতার কিনতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম এমনিতেই চড়া। তার ওপর একই পেঁয়াজি-বেগুনি এক জায়গায় ১৬০ টাকা আর অন্য জায়গায় ২৫০ টাকা এটা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।
কাঁঠালতলা এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, ব্র্যান্ড বা মানের কথা বলে ইফতারির দাম দ্বিগুণ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার তদারকি করা, যাতে কেউ ইচ্ছামতো দাম হাঁকাতে না পারে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বাজার তদারকির জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ রোজাদাররা। তবে বিক্রেতাদের দাবি, রান্নার উপকরণের মান ও প্রতিষ্ঠানের সুনামের ওপর ভিত্তি করেই এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ঘোষণা দিয়ে খাবার বিক্রি করে ও দামের দিক থেকে খুব বেশি অসামঞ্জস্য না থাকে, তাহলে তারা বিক্রি করতে পারে। যেহেতু এটি খোলা খাদ্যপণ্য ও সরকার নির্ধারিত কোনো নির্দিষ্ট মূল্য নেই, তাই কিছুটা কম-বেশি হতেই পারে। শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কার কাছ থেকে খাবারটি কিনবেন।
এলবি/এমএন/জেআইএম