প্রশাসকের গাড়িতে অফিস সহায়কের রাজসিক বিদায়

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভায় দীর্ঘ ১৫ বছরের চাকরি জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবসর নিলেন অফিস সহায়ক মো. চান মিয়া। তার এই বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কুয়াকাটা পৌরসভার হলরুমে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সম্মাননায় সিক্ত হন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে পৌর প্রশাসক নিজ উদ্যোগে তার ব্যক্তিগত গাড়ি সাজিয়ে মো. চান মিয়াকে সম্মানসূচকভাবে নিজের আসনে বসান ও ব্যান্ড বাজিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

এসময় পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে বিদায়ি সহকর্মীকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানান। পুরো আয়োজনজুড়ে আবেগঘন দৃশ্যের সৃষ্টি করে, যা উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়।

প্রশাসকের গাড়িতে অফিস সহায়কের রাজসিক বিদায়

অনুষ্ঠানে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদুর রহমান সোহেলসহ পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চানমিয়ার প্রতিবেশী মো. হাবিব শরীফ বলেন, সাধারণত আমরা দেখি চাকরি শেষে অনেক কর্মচারী তাদের প্রাপ্য টাকা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেন। কিন্তু এখানে ব্যতিক্রম ঘটেছে। চান মিয়ার বিদায়ের দিনই তার সকল পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং তাকে যে সম্মান দিয়ে বিদায় জানানো হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রশাসকের গাড়িতে অফিস সহায়কের রাজসিক বিদায়

বিদায়ি অফিস সহায়ক মো. চান মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি কখনো ভাবিনি এভাবে বিদায় পাবো। সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সম্মান আমাকে অভিভূত করেছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমার সব বেতন-ভাতা বিদায়ের দিনই পরিশোধ করা হয়েছে এটা আমার জন্য অনেক স্বস্তির। আমি পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এই স্মৃতি আমি সারাজীবন মনে রাখবো।

পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, চান মিয়া অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কর্মজীবনের অবদান আমরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করি। সাধারণত অনেক ক্ষেত্রে বিদায়ের সময় কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বকেয়া থেকে যায়, কিন্তু আমরা সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছি। তাই তার চাকরি জীবনের সকল প্রাপ্য বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই পরিশোধ করা হয়েছে, যাতে তিনি নিশ্চিন্তে নতুন জীবনে পদার্পণ করতে পারেন।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।