টেকনাফে এক ব্লকের ১৬৯৮ জন পাচ্ছেন ‘কৃষক কার্ড’
সরকারের দেওয়া ভর্তুকি, ঋণ ও প্রণোদনা কৃষকের কাছে সহজলভ্য করতে কৃষি কার্ডের আওতায় আসছেন কৃষকরা। সরকারের এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় বাহারছড়ায় একটি ব্লককে ‘পাইলটিং’ হিসেবে ধরা হয়েছে। এ ব্লকে কার্ডের আওতায় আসছেন এক হাজার ৬৯৮ কৃষক-কৃষানি।
আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন নিজ নিজ জেলার মন্ত্রীরা কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারে উপস্থিত হয়ে প্রান্তিক তালিকাভুক্ত কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) বিমল কুমার প্রামাণিক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ায় একটি ব্লকে পাইলটিং করা হবে। এ ব্লকে এক হাজার ৪৬৩ জন পুরুষ ও ২৩৫ নারী প্রথম তালিকায় স্থান পেয়েছে। তাদের মাঝে শস্যে এক হাজার ৬৪১, মৎস্যে দুজন, খামারি ১০ জন, লবণ চাষি দুজন, ভূমিহীন ১২৪ জন ও বাকিরা ক্ষুদ্র-মাঝারি মিলিয়ে এক হাজার ৬৯৮ জন নারী-পুরুষ পাবেন সরকারের দেওয়া এই কার্ড। কৃষকের আয়, জমির মালিকানা ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় ক্ষুদ্র, ভূমিহীন, প্রান্তিক, মাঝারি ও সচ্ছল এ ৫ শ্রেণিতে কৃষকদের অন্তর্ভুক্তির কাজ চলমান বলে জানিয়েছে সূত্র।
তবে প্রথম পর্যায়ে তিন শ্রেণির কৃষক এ সুবিধার আওতায় আসছেন। কার্ডের সুবিধাভোগী কৃষকরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এছাড়াও কার্ডধারী কৃষকরা পাবেন ১০ ধরনের সুবিধা। এর মাঝে থাকছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি, সরকারি প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বিমাসুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার তথ্য ও রোগবালাই দমনে পরামর্শ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকার কৃষি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, কৃষকের সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি, প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, কৃষকের চাষাবাদের খরচ কমানো, কৃষিপণ্যের বিপণন প্রক্রিয়া উন্নত করা ও সব ধরনের ভর্তুকি (আর্থিক ও কৃষি উপকরণ) বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে জানতে পেরেছি। তবে সরকারিভাবে এখনো কোনো চিঠি হাতে পাইনি। ওইদিন টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার একটি ব্লকে এক হাজার ৬৯৮ জন নারী-পুরুকে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতি কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধনে (১৪ এপ্রিল) কক্সবাজারের অনুষ্ঠান নিয়ে আমরা প্রস্তুত আছি।
সায়ীদ আলমগীর/এমএন/এমএস