পাহাড়ে লেগেছে উৎসবের রঙ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ১০:৫৪ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উপলক্ষে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে লেগেছে উৎসবের রঙ। নানা রকম আনন্দ আয়োজন আর ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও খাবারের পরিবেশনায় শুরু হয়েছে এ উৎসব। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এই সামাজিক অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যস্ত এখন শহর, নগর আর পাহাড়ি জনপদ।

চাকমারা বিজু, ত্রিপুরা বৈসুক, মারমারা সংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, অহমিয়ারা বিহু এমন অনেক নামে আলাদাভাবে পালন করা হয় এই উৎসব। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি সব জাতিগোষ্ঠীর উৎসবকে সংক্ষেপে বৈসাবি নামেও ডাকা হয়।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বৈসাবি উপলক্ষে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে ফিতা কেটে, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে পাঁচ দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। উদ্বোধনের পর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা সম্প্রীতি নৃত্য পরিবেশন করেন।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য মন্ত্রী অ্যাড. দীপেন দেওয়ান এমপি।

পাহাড়ে লেগেছে উৎসবের রঙ

তিনি বলেন, আগে শুধু তিনটি সম্প্রদায়ের অক্ষর দিয়ে বিঝু পালিত হতো। বৈসাবি বলতে ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু। কিন্তু আমাদের সরকার চায় সব জনগোষ্ঠী তাদের স্ব স্ব উৎসব স্ব স্ব নামে পালন করুক। এটা তাদের অধিকার, সেই অধিকার আমরা কেড়ে নিতে চাই না। এগুলো তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়। এসব থেকে তাদের বঞ্চিত রাখা যাবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ চাকমা, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।

অনুষ্ঠানের প্রথম দিন শোভাযাত্রা ছাড়াও সাংগ্রাই জলোৎসব, ঐতিহ্যবাহী পাঁজন রান্না প্রতিযোগিতা, ত্রিপুরা গরাইয়া নৃত্য, ঘিলা খেলা, নাটকসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এছাড়া পাঁচ দিনব্যাপী মেলায় ঐতিহ্যবাহী খেলা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী যন্ত্র সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চ নাটক অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১০ এপ্রিল মেলা শেষ হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এছাড়া আগামী ৯ এপ্রিল বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, চাংক্রান, পাতা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে শুরু হবে চার দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। আগামী ১৭ এপ্রিল মারমা সংস্কৃতি সংস্থার সাংগ্রাই জলোৎসবে শেষ হবে বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা।

আরমান খান/এনএইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।