হত্যাচেষ্টা মামলা

সিলেট আদালতে আরিফ-গউস-বাবর, নিজেদের ‘নির্দোষ’ দাবি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিলেট
প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য জি কে গউছ ও লুৎফুজ্জামান বাবর।

সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দিতে তিনজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। একই সঙ্গে এ মামলাকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে নিজেদের অব্যাহতির দাবি জানান তারা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ জানান, ৩৪২ ধারায় আদালতে মামলার আসামিদের পরীক্ষা করা হয়। এসময় আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জিকে গউছসহ অন্য আসামিরা সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এসময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেন।

জবানবন্দি শেষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক। এই মামলায় আমাদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষীই অভিযোগ করেননি। শুরুতে এজাহারেও আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আমাদের যুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া শেষ করেছি। আমরা আদালতের প্রতি আস্থা রাখি। ন্যায়বিচার হলে আমরা সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হবো।’

একইভাবে এ মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট দাবি করেন সরকারদলীয় হুইপ ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছ।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য এ মামলায় সরাসরি আসামি করা হয়েছে। প্রথম এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরবর্তীতে সম্পূরক চার্জশিটের মাধ্যমে আমাদের যুক্ত করা হয়। এটি সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা।’

জি কে গউছ আরও বলেন, ‘আমরা আদালতে আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়বিচারের কোনো বিকল্প নেই।’

মামলার আরেক আসামি সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ এসব মামলার পেছনে একই উদ্দেশ্য ও কারণ কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের আমলে এসব কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা মানুষ বুঝতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের ধ্বংস করার জন্যই এসব মামলা করা হয়েছে। এমনকী আমাদের নেতা তারেক রহমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যও এতে রয়েছে।’

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা আদালত চত্বরে এসে হাজির হন। এসময় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী তাদের ঘিরে রাখেন। মামলার শুনানির জন্য আদালতের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। পরে শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন, মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ অনেকে অংশ নেন।

২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনি এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাইবাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

এ ঘটনায় করা দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।

আহমেদ জামিল/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।