রংপুরে বেড়েছে ডিম-মুরগির দাম, সবজিতেও অস্বস্তি
রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে বেগুনসহ কিছু সবজির দাম। সেইসঙ্গে দাম বেড়েছে মুরগি ও ডিমের। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে চাল-ডালসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৪-৩৫ টাকা।
এদিকে, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৯০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বেড়েছে পাকিস্তানি সোনালি মুরগির দাম।
পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮০-৩৯০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড ৩৩০-৩৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০-৩৬০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার ৩২০-৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪০-৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি আগের মতো ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গরুর মাংস অপরিবর্তিত ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মুলাটোল আমতলা বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, বাজারে পাকিস্তানি সোনালি ও হাইব্রিড জাতের মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। সেইসঙ্গে দেশি মুরগিও সংকট। এ কারণে দাম বেড়েছে।
সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০-৪০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকা, ঝিংগা ১০০-১২০ টাকা থেকে কমে ৯০-১০০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকা, কাঁচকলার হালি গত সপ্তাহের মতোই ২৫-৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা, সজনে ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৬০-৭০ টাকা, শসা ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০-৪০ টাকা, লেবুর হালি আগের মতো ২৫-৩০ টাকা, চিকন বেগুন ৩০-৪০ টাকা থেকে লাফিয়ে হয়েছে ৬০-৭০ টাকা, গোল বেগুন ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকা, পটল ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ গত সপ্তাহের মতোই ৫০-৬০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫-৪০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-১০০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, কচুর লতি আগের মতো ৭০-৮০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকা, সব ধরনের শাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে, দেশি আদা ১৫০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০-১৮০ টাকা, আমদানি করা আদা ১২০-১৪০ টাকা, দেশি রসুন ৮০-১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ২৫০-২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে কার্ডিনাল আলু ১৮-২০ টাকা, সাদা আলু ৩০-৩৫ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩০-৩৫ টাকা, শিল আলু ৩০-৩৫ টাকা এবং ঝাউ আলুর দাম বেড়ে ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ধাপ বাজারের সবজি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সবজি আমদানি আগের তুলনায় কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে দামে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল গত সপ্তাহের মতোই ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, মাঝারি ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১০০-১০৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫০-৫৫ টাকা, খোলা আটা ৪০-৪৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা, বিআর২৮ ৬৫-৭০ টাকা, বিআর২৯ ৬০-৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৭০-৭৫ টাকা, মিনিকেট ৮৫-৯০ এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ ৩০০-৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৫০ টাকা, কারপু ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, বাটা ১৮০-২৪০ টাকা, শিং ৩০০-৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০-২৬০ টাকা এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জিতু কবীর/এনএইচআর/এএসএম