কুষ্টিয়া

লাইনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব, ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন মিরপুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
জরুরি পরিষেবার কথা জানিয়ে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা দ্রুত তেল নিতে চাইলে এ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়

কুষ্টিয়ার মিরপুরে জরুরি সেবায় নিয়োজিত পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে তেল না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে পুরো উপজেলা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন গ্রাহকরা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মিরপুর উপজেলার অধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাব-স্টেশনের ১৫টি ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রাহকরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো মেরামতের জন্য বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা স্থানীয় মেসার্স মল্লিক তেল পাম্পে মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান। এসময় মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জরুরি সেবাই নিয়োজিত পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বলেন। কিন্তু জরুরি পরিষেবার কথা জানিয়ে কর্মীরা দ্রুত তেল নিতে চাইলে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ায় বিদ্যুৎ মেরামতের জরুরি কাজ ব্যাহত হয়। এ ক্ষোভ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা থেকে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো উপজেলা স্থবির হয়ে পড়ে।

লাইনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব, ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন মিরপুর

মিরপুর উপজেলা পাড়ার বাসিন্দা সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‌‘কোনো ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাড়িতে পানি তুলতে পারছি না। রান্নাবান্নাসহ সব কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।’

একই চিত্র সরকারি অফিসগুলোতেও। মিরপুর পৌর এলাকার সুলতানপুর থেকে জমির মিউটেশন (নামজারি) করতে আসা রফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার বলেন, ‘সকাল থেকে বসে আছি। বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনে ফরম পূরণ বা টাকা জমা দিতে পারছি না।বৃহস্পতিবার সপ্তাহ শেষ। এখন আবার রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণ মানুষের এ কষ্টের দায় কে নেবে?’

মিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আরিফুল হক বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে আমাদের কর্মীরা রাত থেকেই কাজ করছিলেন। সকালে নতুন কিছু ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত যাতায়াতের জন্য কর্মীদের তেল প্রয়োজন হয়। আমি নিজে ইউএনওকে অনুরোধ করেছিলাম যেন জরুরি বিবেচনায় আমাদের দ্রুত তেল দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি। তেল পেতে দেরি হওয়ায় লাইন চেক করে চালু করতেও বিলম্ব হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। তদন্ত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল-মামুন সাগর/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।