খাবার-ওষুধের জন্য কাঁদছেন জীবনভর মানুষকে কোরআন শেখানো বৃদ্ধা সালেহা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৩:৫৬ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সারাজীবন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরআন পড়িয়েছেন আশি বছরের বৃদ্ধা সালেহা বেওয়া। সেই আয়ে কোনোরকম টেনেছেন সংসারের চাকা। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অসহায় হয়ে পড়েছেন এই বৃদ্ধা। নিজের কোনো ঘর নেই, নেই ভরসা করার মতো আপনজনও। বর্তমানে বগুড়া শহরের কর্ণপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন ভবনে প্যারালাইজড ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তার।

পাকিস্তান আমলে স্বামী কাজেম শেখকে হারান সালেহা বেওয়া। এরপর মানুষের বাড়িতে কোরআন পড়িয়ে ও গৃহস্থালির কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন। দীর্ঘদিন বগুড়ার গোয়ালগাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। বড় ছেলে হানিফ শেখের উপার্জনে সংসার চললেও প্রায় দুই বছর আগে তার মৃত্যু হয়। ছোট ছেলে রহিম শেখও কয়েক বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারান। এতেই পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে।

খাবার-ওষুধের জন্য কাঁদছেন জীবনভর মানুষকে কোরআন শেখানো বৃদ্ধা সালেহা

সম্প্রতি যে ভাড়া বাসায় তারা থাকতেন, সেটি মেরামতের কথা বলে মালিক তাদের সরিয়ে দেন। এরপর ছোট ছেলের স্ত্রী অন্য এলাকায় বাসা ভাড়া করে তাদের রেখে এলেও পরে আর কোনো খোঁজ নেননি। একপর্যায়ে সেখান থেকেও তাদের বের করে দেওয়া হয়। ঠাঁই না পেয়ে কর্ণপুর উত্তরপাড়া মাজার গেট এলাকার একটি পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন মা ও ছেলে।

আরও পড়ুন:
চিকিৎসা বন্ধ, হুইলচেয়ারে বসেই চলছে শাওনের জীবিকার লড়াই
তরুণ আশিকের দুটি কিডনিই বিকল, সাহায্যের আবেদন
দুই মেয়ের চিকিৎসায় কিডনি বিক্রি চান হতভাগা বাবা

সরেজমিনে দেখা যায়, খোলা ও অনিরাপদ ওই ভবনের এক কোণে পড়ে আছেন মা ও ছেলে। বৃদ্ধা সালেহা বেওয়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা বা ওষুধ কোনোটিই জুটছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা মাঝেমধ্যে খাবার দিয়ে বা গোসল করিয়ে দিয়ে সাহায্য করছেন।

সালেহা বেওয়া বলেন, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সারা জীবন কোরআন শিক্ষা দিয়েছি। এখন আর চলার শক্তি নেই। খাবার না জুটলেও চলে, কিন্তু চা ছাড়া থাকতে পারি না। সেই চায়ের পয়সাও এখন আর নেই।

খাবার-ওষুধের জন্য কাঁদছেন জীবনভর মানুষকে কোরআন শেখানো বৃদ্ধা সালেহা

স্থানীয় বাসিন্দা ঈশিতা খাতুন বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসন বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই অসহায় মা ও ছেলের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্ভব হতো।

বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রাজিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর বা পৌরসভার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

জীবনের এই শেষ বেলায় সালেহা বেওয়ার এখন একটাই আকুতি, একটু নিরাপদ আশ্রয় আর দু-মুঠো অন্ন। যাতে অন্তত শেষ কটা দিন খেয়ে-পরে বাঁচতে পারেন।

এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।