কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা
কুষ্টিয়ায় বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে কথিত পীর আব্দুর রহমান শামীম (৬৫) ওরফে কালান্দার বাবাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পর জনপ্রিয় বাউল সংগীত শিল্পী ওস্তাদ শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশি পাহাড়া বসানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
ওসি জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তার বাড়িতে হামলা হতে পারে এ রকম সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই।
বাউল শিল্পী শফি মণ্ডল বলেন, আমি গত একমাস গ্রামের বাড়িতে নেই, ঢাকাতে অবস্থান করছি। ওখানে কি হচ্ছে, এটা তো আমি বলতে পারবো না। আমার মেয়ে গ্রামে আছেন, তার সঙ্গে কথা বললে পুরো ব্যাপারটি জানতে পারবেন।
এ ব্যাপারে শফি মণ্ডলের মেয়ে লিনা মণ্ডল বলেন, আমার বাবা সাধক শিল্পী, সংগীতের জন্য মূলত তিনি বিভিন্ন দরবারে যান। ফিলিপনগর আমাদের বাড়ি যার কারণে তিনি ওই দরবারে গিয়েছিলেন- সে সময়ের ছবি ভিডিও আছে। যে ভিডিও ভাইরাল করে মব তৈরি করে শামীমকে হত্যা করা হলো, সেই ভিডিওতে আমার বাবাও আছে।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবা লালন দর্শনের অনুসারী একজন মানুষ। যেহেতু আমরা লালন অনুসারী বা লালন দর্শন বিশ্বাস করি। সারাবিশ্বে তিনি লালন সাঁইজির বাণীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এখন এই মতের সঙ্গে তো অন্য ধারনার মানুষের মিল নাও হতে পারে। কিন্তু আমরা আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল সম্পর্কে ধ্যাণ করি। আমাদের জীবন আচরণ অবশ্যই ইসলামিক। তবে, আমরা সাঁইয়ের ধারাটাকেই লালন করি। যেহেতু ওই ছবিটা ভাইরাল হয়েছে, যে ছবিতে আমার বাবা আছেন। মব জাস্টিসের সঙ্গে যারা জড়িতরা সেটি ভাইরাল করেছেন। আমার বাবা দেশ বরেণ্য লালন শিল্পী যার কারণে সরকার মনে করেছেন তার নিরাপত্তা দেওয়া দরকার, তাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। সেসময় দরবার শরিফে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। নিহত শামীম ওই দরবার শরিফের প্রধান এবং এলাকায় কালান্দার বাবা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দরবার শরিফে হামলায় তার ৩ অনুসারী-মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৫টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তার দাফন করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আল-মামুন সাগর/এসএএইচ