আমির হামজাকে আইনি নোটিশ
‘কুষ্টিয়ার ডিসি হতে ২০-৩০ কোটি টাকা খরচ করা লাগছে’ বলে মন্তব্য
কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) বদলি হয়ে আসার জন্য ২০-৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন—এমন বক্তব্যের কারণে সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে তথ্যদাতার পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ অথবা আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রবিউল ইসলামের পক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) আইনজীবী আব্দুল মজিদ নোটিশটি পাঠান।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লিগ্যাল নোটিশটি এমপি সাহেব বরাবর পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে নাম-পরিচয় প্রকাশ অথবা আইনগত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি তা না করেন, তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় বক্তব্যকালে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘কুষ্টিয়ার ডিসি আসতে কমপক্ষে এখন ৩০-৫০ কোটি টাকা খরচ করে আসা লাগে। এর আগে ২০ কোটি পর্যন্ত শুনেছিলাম। একজন ডিসি-এসপিকে আসতে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে তারপরে এই চেয়ারে বসা লাগে।’
এসময় আমির হামজা আরও বলেন, ‘সদর থানার ওসিকে অন্তত ২০ লাখ টাকা উপরওয়ালাকে দিয়ে এখানে আসা লাগে।’
আরও পড়ুন:
তিন দিনে মেডিকেল কলেজের জন্য ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন আমির হামজা
পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এ বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ওই আলোচনায় আমির হামজা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকেও ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দেন।
বক্তব্য দেওয়ার ১৬ দিন পর সোমবার মুফতি আমির হামজাকে ডিসি বদলি হয়ে আসার জন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ২০-৩০ কোটি দিয়েছেন, তাদের পরিচয় প্রকাশ করার জন্য এ নোটিশ পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি।’
এ বিষয়ে হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস বলেন, ‘এমপি সাহেব ওইদিন নিজে থেকেই জুমার নামাজে মসজিদে এসেছিলেন। তবে আলোচনার সময় বাইরে থাকায় তিনি কী বক্তৃতা দিয়েছেন আমি শুনতে পাইনি।’
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা মেডিকেল কলেজ চালু নিয়ে বললেন, তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম বলছেন না। আবার কুষ্টিয়ায় ডিসি বদলি হয়ে আসতে ২০-৩০ কোটি টাকা দিতে হয় বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি (আমির হামজা) জনসম্মুখে নাম প্রকাশ করুক। তথ্য গোপন করাটাও ক্রিমিনাল অফেন্স।’
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
আল-মামুন সাগর/এসআর/এএসএম