নববর্ষে বর্ণিল কক্সবাজার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

জীবনের হালখাতায় যুক্ত হলো আরও একটি বছর। মঙ্গলবারের (১৪ এপ্রিল) সূর্যোদয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পথচলা শুরু হয়েছে। ইংরেজি নববর্ষের মতো বাংলা এ নববর্ষ বরণে রংতুলির আঁচড়ে বর্ণিল হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের পর্যটনস্পটগুলো।

বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষ্যে কক্সবাজারের আয়োজন করা হচ্ছে মেলাসহ লোকজ নানান সংস্কৃতির। রঙিন জীবনের পরশের মাঝে গ্রাম বাংলার নানা আলপনায় সাজানো হচ্ছে হোটেল-মোটেল জোনের তারকা হোটেলগুলো। অনেক হোটেল ঘোষণা করেছে অতিথিদের জন্য সাশ্রয়ী নানান প্যাকেজ। বৈশাখ বরণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

ঈদ ও থার্টিফার্স্ট নাইটের আদলে লোকসমাগমের আশায় বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়েও ভাবছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা বলয় তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবারের ঈদের ছুটির সাথে নানা ছুটিসহ প্রায় ১০ দিনের বন্ধ মিলেছিল। তখন থেকে কক্সবাজারে লোকসমাগম বাড়ছে। সাপ্তাহিক খোলার দিনগুলোতে পর্যটক কম এলেও সাপ্তাহিক ছুটিতে লোকজন আসছে ভালোই। সেই ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখেও পর্যটন সরগরম থাকবে বলে আশা করা যায়। বাংলা বর্ষ বরণ করতে কক্সবাজারেই ছুটে আসবেন ভ্রমণ পিপাসুরা এমনটি ধারণা সবার। কিন্তু অনেক তারকা হোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজ এবং আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম বুকিং খুবই কম। ২৫-৩০ শতাংশ বুকিং হয়েছে কক্ষ। ঈদের ছুটি শেষ হলো বেশিদিন হয়নি, এটাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বুকিং কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ইতোমধ্যে কক্সবাজার এসে পৌঁছেছেন। চৈত্রের কাঠফাটা রোদের মাঝেও মেঘ-রোদ্দুর খেলায় সৈকতের ঢেউয়ের আঁচড় ছুঁয়ে আনন্দ উপভোগ করছেন আগত পর্যটকরা।

ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, বর্ষ হিসাব মতে এখন পর্যটন মৌসুমের শেষ সময়। এ সময়ে চৈত্র-বৈশাখের দাবদাহে কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম একেবারে কমে যায়। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এ অসময়েও কক্সবাজারে কমবেশি পর্যটক উপস্থিতি রয়েছে।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস’র বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নূর সুমেল জানান, বিগত বছর গুলোর ন্যায় বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে ওশান প্যারাডাইস এবারও পহেলা থেকে ৪ঠা বৈশাখ চার দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করছে। সকাল ৯টায় হোটেল প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে।

তিনি আরও জানান, ‘বাঙ্গালীয়ানার ষোল আনা’ পূর্ণ করতে মেলায় বাঙ্গালি ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্ক যুক্ত নানা পণ্য বিক্রির স্টল বসানো হচ্ছে। বিকেলে অতিথিদের নিয়ে হাড়িভাঙ্গা, বালিশ খেলা এবং বাচ্চাদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় লোকজ সংস্কৃতির নানা আয়োজন। রয়েছে বৈশাখী ভোজসহ সাশ্রয়ী প্যাকেজ।

নববর্ষে বর্ণিল কক্সবাজার

শুধু ওশান প্যারাডাইস নয় পৃথকভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে তারকা হোটেল রামাদা, সায়মন, কক্স-টু-ডে, লংবীচ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন, মারমেড ও গ্রীণনেচারসহ বেশকিছু হোটেল। ইনডোরে তারকা হোটেলগুলো নিজেদের মতো উৎসব আয়োজন করলেও অন্যান্য হোটেল গেস্ট হাউজগুলো প্রশাসন আয়োজিত র্যালি ও অনুষ্ঠানে যোগ দিবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বৈশাখ উপলক্ষ্যে কম বেশী ব্যবসা পাচ্ছে ছোট-বড় সব আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কক্সবাজার সরকারি কলেজ, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজসহ জেলা উপজেলার প্রায় প্রতিটি মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নানা সংগঠন।

সোমবার হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে নিজ নিজ হোটেল এলাকায় বৈশাখী ঐতিহ্যের রঙের আঁচড় লাগাচ্ছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। বাঙ্গালীয়ানায় সাজানো হচ্ছে সবকিছু।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, আবাসিক হোটেল-গেস্ট হাউস-কটেজ ও সরকারি রেস্ট হাউসে প্রায় সোয়া লাখ মানুষের রাত যাপনের সুবিধা রয়েছে। এবারের বৈশাখী ছুটি গরমে ও ঈদের ছুটি শেষ হলো এ মাসের শুরুতে- তাই, পর্যটকদের ভিড় না থাকলেও মোটামুটি পর্যটক-দর্শনার্থী আসবে বলে আশা করা যায়। আমরা সেবা দিতে প্রস্তুত আছি। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও সাফারী পার্ক ও মহেশখালীর আদিনাথে পর্যটকদের পদচারণা পড়বে বলে আশা করা যায়।

বাংলা নববর্ষের আয়োজনে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলে জানান, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। পর্যটকদের চাপ বাড়ার চিন্তা মাথায় রেখে পর্যটন স্পটসমূহে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। সৈকতে পর্যটকদের রাতদিন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বিধান করবে পুলিশ।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, পর্যটক নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিতে প্রস্তুতি নেয়া আছে। পর্যটন জোনের সর্বত্র র্যাবের বিশেষ টহলও থাকবে।

জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান বলেন, সম্ভাবনাময় শিল্প পর্যটনকে বিকশিত করার প্রচেষ্টা সর্বময়। এরই অংশ হিসেবে বৈশাখের বৈচিত্রময় আয়োজন থাকে কক্সবাজারে। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। জেলা প্রশাসন বৈশাখ বরণে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করবে। জেলা শহরের প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা এতে অংশ নিয়ে বাঙ্গালীয়ানাকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করবে বলে আশা রাখছি। এ আয়োজনে পর্যটকদেরও অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সায়ীদ আলমগীর/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।