তিস্তার পানিতে বন্দী ১০ হাজার মানুষ


প্রকাশিত: ০৩:১৩ এএম, ১৭ জুলাই ২০১৬

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

প্রবল বন্যার কারণে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ীসহ আশপাশের ১০টি গ্রাম হাটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সর্তকীকরণকেন্দ্র সূত্র মতে, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে বোরবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৫৭) উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটারকে। এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এদিকে, তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ড, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, রংপুরের গঙ্গচড়া উপজেলার তিস্তাবেষ্টিত চর ও চর এলাকার ২৫টি গ্রাম ও গ্রামের ১০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামা ও ফরেস্টের চরের ৭০০ পরিবারের বসতভিটায় বন্যায় পানি প্রবেশ করেছে। এসব পরিবারের অধিকাংশ বাড়ি হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে, উজানের ঢলে ফুঁসে ওঠা তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ও লালমনিরহাট জেলার সানিয়াজান এলাকার ২০ হাজার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।

শনিবার নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সহকারী কমিশনার ভূমি মিল্টন চন্দ্র রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ, টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন তিস্তার বন্যা ও ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

flood

নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়িসহ ১০টি গ্রামের অবস্থা ভাল না। এসব এলাকার লোকজন সাহসের সঙ্গে বন্যা মেকাবেলা করছে। এসব এলাকার ঘরবাড়ি, স্কুল, আবাদী জমি, হাটবাজার সব কিছু তিস্তা গ্রাস করে চলেছে।

জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টেপাখড়িবাড়ীর চরখড়িবাড়ী, ঝিঞ্জির পাড়া, টাবুর চর, একতা বাজারসহ আশেপাশের ১০টি গ্রামে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

একতার বাজারটি তিস্তা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ায় হাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী আব্দুল হাই (৬৫) জানান, এই জীবনে তিস্তার এমন রাক্ষুসী রূপ দেখিনি।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জাগো নিউজকে জানান, তিস্তা নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ায় টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম এখন তিস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে। নদী এখন এসব গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চরখড়িবাড়ীর মধ্য চরখড়িবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাপুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও ওই গ্রামের ত্রাণের ৩৯ ফিট একটি ব্রিজ।

floodএছাড়া বিএডিসির চরখড়িবাড়ী এলাকায় গত ২ বছর আগে নির্মিত ১৭ ফিট একটি ব্রিজ, ঝিঞ্জির পাড়ায় এলজিইডির নির্মিত ৭০ ফিট  ব্রিজ ও পূর্বখড়িবাড়ী এলাকায় এডিপির ১০ফিট একটি ব্রিজ বিলীন হয়েছে। এছাড়া ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে, বন্যায় চুলা ও টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে রয়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। কোথাও হাটু আবার কোথাও কোমড় পানির নিচে চলে গেছে রাস্তা-ঘাট, স্কুল ও বাড়ি-ঘর। পানিবন্দী মানুষ তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে গবাদি পশু নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাঁধের উপর ঘর নির্মাণ করেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, উজানের ঢলে ও ভারী বৃস্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি সকাল ৬টা থেকে ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অবহ্যাত রয়েছে।

জাহেদুল ইসলাম/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।