লোডশেডিংয়ের বাগড়ায় ব্যাহত চা উৎপাদন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০২:৫৭ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রতিদিনের ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে মৌলভীবাজারের চা-বাগান কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাজার হাজার কেজি কাঁচা চা-পাতা প্রক্রিয়াজাতের জন্য কারখানায় জমা করা হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে তা নষ্ট হচ্ছে। এতে করে একদিকে চা পাতার কোয়ালিটি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন কারখানা মালিকরা।

জানা যায়, বাংলাদেশে মোট ১৬৭টি চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে ৯২টি চা বাগান। চলতি মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে। তবে এসব পাতা কারখানায় আনা হলেও ঠিকমতো প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না লোডশেডিংয়ের কারণে। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে কাঁচা পাতা অন্যদিকে চায়ের কোয়ালিটি রক্ষা করা যাচ্ছে না।

বিভিন্ন চা বাগান সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি হওয়ার পর চা বাগানের পাতা উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করার সঠিক সময়। অনেক বাগান চা পাতা প্রক্রিয়াজাতের সমস্যায় পাতা উত্তোলন করছে না। লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এরসঙ্গে তেল সংকটের সমস্যাও আছে। মৌসুমের প্রথমে যদি চা পাতা উৎপাদন ব্যাহত হয় তাহলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কষ্টকর হবে। প্রতিদিন ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রতিটি কারখানায় অনেক চা পাতা নষ্ট হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের বাগড়ায় ব্যাহত চা উৎপাদন

এদিকে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সারা জেলায় আমাদের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৫০ মেগাওয়াট। গ্রিড লাইন থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে সরবরাহ করা হয় মাত্র ৪৫ শতাংশ। চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং বেড়ে গেছে।

চা শ্রমিকরা জানান, চা শিল্পের এখন মৌসুম মাত্র শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে লোডশেডিংয়ের কারণে চা পাতা উত্তোলন করে কারখানায় নিয়ে এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে চা পাতার কোয়ালিটি রক্ষা করা। কোয়ালিটি নষ্ট হলে লোকসানে পড়তে হবে বাগান মালিকদের।

চাতলাপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের চা পাতা প্রক্রিয়াজাত চরম ব্যাহত হচ্ছে। দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। বিশেষ করে লোডশেডিংয়ে চা পাতার কোয়ালিটি নষ্ট হচ্ছে। আমাদের গ্যাসচালিত জেনারেটর আছে, তবে তা দিয়ে পুরোপুরি কার্যক্রম চালানো অসম্ভব।

লোডশেডিংয়ের বাগড়ায় ব্যাহত চা উৎপাদন

শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের উত্তোলনকৃত পাতা নষ্ট হচ্ছে। একইসঙ্গে কোয়ালিটিও নষ্ট হচ্ছে। আমরা যদি আগে থেকে জানতাম যে এই সময় বিদ্যুৎ থাকবে না তাহলে একটা প্রস্তুতি নিতে পারতাম। যখন চা পাতা প্রক্রিয়াজাতের জন্য মেশিন চালালাম তখন বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে, চা নষ্ট হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেড়ে গেছে, এজন্য লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। আশা করি এই সমস্যা কিছুদিনের মধ্যে সমাধান হবে।

মাহিদুল ইসলাম/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।