একঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবে গেছে কুসিকের সড়ক-অলিগলি
মাত্র সোয়া একঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবে গেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ সড়ক ও অলিগলি। পানি ঢুকে পড়েছে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সোয়া ১১ পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সরেজমিনে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীর প্রধান সড়ক লাকসাম রোড, জেলা স্কুল রোড, রেইসকোর্স, বিসিক শিল্পনগরী, কুমিল্লা নগর ভবনের সমনের সড়ক, ঈদগাহ এলাকা, ছাতিপট্টি, চর্থা, কান্দিরপাড়-রাণীর বাজার সড়ক, ঠাকুরপাড়া-অশোকতলা, ছায়া বিতান ও শুভপুরসহ নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

এতে নগরজুড়ে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুন। জলমগ্ন সড়কে দুর্ভোগে পড়া বাসিন্দারা কুমিল্লা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আজমদ সিফাত উল্লাহ জায়িম নামে এক বাসিন্দা বলেন, কুমিল্লা নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বহু আগে থেকে। দুঃখের বিষয় হলো সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চিহ্নিত সমস্যা সমাধান করা যায়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেও সড়কগুলো তলিয়ে যায়। আমরা এতদিকে কী উন্নয়ন করলাম? নাকি উন্নয়নের নামে সরকারের অর্থ লুট করেছি?
শাহ নেওয়াজ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, অপরিকল্পিত দালান নির্মাণ আর পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরীতে প্রধান সড়কসহ অলি-গলি ডুবে যায়। পানি ঢুকে পড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে। সিটি করপোরেশন এলাকায় এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্টেডিয়াম মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, এই মার্কেটে দোকান নিয়ে ভুল করেছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দোকানে পানি ঢুকে যায়। মালামাল নষ্ট হয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকে আমরা চিরতরে পরিত্রাণ চাই।
রিকশাচালক তাইজুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লার মতো এমন আজব শহর কোথাও দেখিনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে। ১০ থেকে ১টা পর্যন্ত রিকশা নিয়ে বসে আছি। এক টাকাও উপার্জন করতে পারিনি। মনে হয় আজ জমার টাকা পকেট থেকে জরিমানা লাগবে।
জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জাগো নিউজকে বলেন, বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক লেবার নিয়োজিত করেছি। যেখানে যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া স্থায়ীভাবে নিরসনের জন্য সমস্যা চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা আবহাওয়া কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কুমিল্লাজুড়ে আরও দুইদিন মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাহিদ পাটোয়ারী/এমএন/এএসএম