থানায় গিয়ে এসপিকে সরাসরি ঘুস দেওয়ার চেষ্টা, নারী গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ০১ মে ২০২৬
গ্রেফতার জেসমিন আক্তার ও তার সঙ্গে আসা ব্যক্তি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে তালাকপ্রাপ্ত স্বামীকে আটক করতে পুলিশ সুপারকে সরাসরি ঘুস দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন জেসমিন আক্তার নামের এক নারী। এসময় তার সঙ্গে আসা মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ নামের আরও একজনকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে তাদের আটক করে কুলাউড়া থানা পুলিশ।

আটক জেসমিন আক্তার উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের তাহির আলীর মেয়ে। সামাদ একই ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে ও পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

পুলিশ সূত্র জানায়, কুলাউড়ার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব মিয়ার সঙ্গে তার তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের পারিবারিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান। মাহতাবকে নাজেহাল করতে এর আগে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন জেসমিন আক্তার। বর্তমানে মাহতাব মিয়া বিদেশ যাওয়ার খবর শুনে আবারও তাকে নাজেহাল করার চেষ্টা করেন তিনি। মাহতাব যাতে বিদেশ না যেতে পারেন, সেজন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে নগদ দুই লাখ টাকাসহ ব্যবসায়ী সামাদ চৌধুরীকে নিয়ে কুলাউড়া থানায় আসেন।

এসময় থানা পরিদর্শন করছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান। পরিদর্শনের সময় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেসমিন আক্তার তার সাবেক স্বামীর বিদেশ যাওয়া বন্ধ করতে সামাদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। একপর্যায়ে সামাদ চৌধুরী কৌশলে জেসমিন আক্তারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন। পরে সেখান থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে ৪০ হাজার টাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দিতে যান। এসময় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে টাকাসহ সামাদ ও জেসমিনকে আটক করে পুলিশ।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক সামাদ ও জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ঘুস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‌‘কুলাউড়া থেকে জেসমিন আক্তার নামের এক নারী বেশ কয়েকদিন ধরে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য মোবাইলফোনে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আমার অফিসে এসে দেখা করতে চাইলে আমি তাকে কুলাউড়া থানায় যেতে বলি। কুলাউড়া থানায় ওই নারী সামাদ নামের এক যুবককে নিয়ে আমার সঙ্গে তার সমস্যার কথা বলেন।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘কথা বলার একপর্যায়ে সামাদ আমার হাতে একটি খাম দেন। তখন সেটি খুলে ২০০ টাকার দুই বান্ডিল নোট দেখতে পাই। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে টাকাসহ আটক করাই। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এম ইসলাম/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।