নারায়ণগঞ্জে চাহিদার তুলনায় কোরবানি পশু বেশি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:০৩ এএম, ০৭ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে পশু ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন জায়গায় পশুর হাট বসানোর জন্যও প্রস্তুতি চলছে। এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের পশুর খামারগুলোও বেশ জমজমাট অবস্থায় রয়েছে। তারা আগে থেকেই গরু বিক্রি করা শুরু করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে ক্রেতারাও আগে থেকেই পছন্দের পশু কিনে রাখছেন এসব খামার থেকে। নারায়ণগঞ্জে এবার চাহিদার তুলনায় কোরবানি পশু বেশি রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৬ হাজার ৫৩৭ টি খামার রয়েছে। এসব খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৪ টি পশু। আর জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা হচ্ছে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭টি পশু। ফলে জেলায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ১০ হাজার ৭০৭টি পশু।

খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুগুলোর মধ্যে ৬১ হাজার ৮৯৯ টি ষাঁড়, ৬ হাজার ৪৮৬টি বলদ, ১৯ হাজার ৭৪৩ টি গাভী, ২ হাজার ৮৪১ টি মহিষ, ১৭ হাজার ১৭২ টি ছাগল, ৫ হাজার ৪৯৩ টি ভেড়া রয়েছে। ১২৭টি অন্যান্য পশু রয়েছে।

উপজেলা অনুসারে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৮ হাজার ১০০টি, বন্দর উপজেলায় ১৯ হাজার ৮২৭টি, রূপগঞ্জ উপজেলায় ১৮ হাজার ৪৯৫টি, আড়াইহাজার উপজেলায় ২৬ হাজার ৮৭৪ টি এবং সোনারগাঁ উপজেলায় ২০ হাজার ৪৫৮টি কোরবানির পশু রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে চাহিদার তুলনায় কোরবানি পশু বেশি

শামীম নামে একজন গরু ক্রেতা বলেন, ফার্মের পরিবেশ সুন্দর থাকে। হাট থেকে গরু কেনা ঝামেলা হয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে আমাদের পরিবারের সদস্যরাও ফার্মে এসে গরু দেখতে পারে। এটা ভালো লাগে।

আকরাম নামে আরেকজন ক্রেতা বলেন, আমি গত কয়েক বছর ধরেই ফার্ম থেকেই গরু ক্রয় করে থাকি। ফার্মের গরুগুলোকে হাইজেনিক মেইনটেন্ট করে খাবার দিয়ে থাকে। গরুর মাংসের গুণগত মানও ভালো থাকে।

তিনি আরও বলেন, হাট থেকে কিনতে গেলে একদিন আগে ক্রয় করতে হয়। কিন্তু ফার্ম থেকে গুরু অনেক আগেই ক্রয় করা যায়। আমরা মাঝেমধ্যে এসে গরু দেখে যাই। একটা মায়া কাজ করে।

বন্দরের বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্মের মালিক লোকমান হোসেন বলেন, আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু লালন পালন করে থাকি। আমাদের নিজস্ব জমিতে উৎপাদন করা ঘাস এবং সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা দানাদার খাবার খাইয়ে থাকি। যার কারণে আমাদের এখানে গরু আগে থেকেই বিক্রি হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু টাকার জন্য গরু লালন করি না, এখানে একটা মায়া কাজ করে। সন্তানের মতো করেই লালন পালন করে থাকি। প্রায় দুই মাস থেকেই আমাদের এখানে গরু বুকিং করা শুরু হয়ে যায়। ইতোমধ্যে আমার খামারের প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, কোরবানি পশুন চাহিদা হলো ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭ টি। নারায়ণগঞ্জ একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে কোরবানি বেশি হয়। এখন পর্যন্ত আমাদের চাহিদা অনুযায়ী কোরবানি পশু বেশি আছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহা পবিত্র উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একটা চ্যালেঞ্জে থাকে। আমরা সব অংশীজনদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করি। নারায়ণগঞ্জের হাটগুলোতে আমাদের ২৫ ভেটেরিনারি টিম কাজ করবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, অন্যান্যবারের মতো এবারও কোরবানির পশুর হাট থেকে শুরু করে পুরো জেলা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত ও চুরি ছিনতাই রোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।