খাগড়াছড়িতে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৩ শিশু
এবার পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতেও বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশু ভর্তি হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই তিন গুণ পর্যন্ত শিশু রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারিভাবে মাত্র ১৫ শয্যা বরাদ্দ থাকলেও কিছুদিন ধরে ৩০জনের অধিক রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে ৩ জন।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজর্ষি চাকমা জানান, বর্তমানে ইনডোরের পাশাপাশি আউটডোরেও শিশু রোগীর চাপ দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছে। তবে এসব রোগীর মধ্যে মৌসুমি ভাইরাল জ্বরের রোগীই বেশি। তবে আমরা যথাসাধ্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।
রোগ পর্যবেক্ষণ ও টিকাদান বিষয়ক মেডিকেল অফিসার (সিমো) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. উৎপল চাকমা জানান, এ পর্যন্ত খাগড়াছড়ি থেকে ৩৩ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং তাতে ২ জন হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে আরও ৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক রোগীর অভিভাবক জানান, তারা সন্তানের গত কয়েকদিন ধরে জ্বর এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাল হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। পরে ডাক্তার ভর্তি নিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, শিশু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। ১৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ৩০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে দীঘিনালা উপজেলা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছে। বর্তমানে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশু চিকিৎসাধীন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো সম্ভব হয়নি।
প্রবীর সুমন/এনএইচআর/এমএস