ভর্তি বিজ্ঞান বিভাগে, মানবিকে রেজিস্ট্রেশন করা নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ০৭ মে ২০২৬
বিদ্যালয়ের একটি স্টোরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়

জয়পুরহাটের কালাইয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় চলাকালে অফিস কক্ষে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আঁওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে মোছা. হুমায়রা নামের এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। বিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী তার রেজিস্ট্রেশনও বিজ্ঞান বিভাগেই সম্পন্ন করা হয়। বই বিতরণের সময় সে বিজ্ঞান বিভাগের বই গ্রহণ করে এবং অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাতেও অংশ নেয়।

ভর্তি বিজ্ঞান বিভাগে, মানবিকে রেজিস্ট্রেশন করা নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীর বড় ভাই জাহিদ বিদ্যালয়ে এসে তার বোনের রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে জানতে চান। এসময় অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ তাকে রেকর্ডপত্র দেখান। পরে তিনি দাবি করেন, তার বোনের রেজিস্ট্রেশন মানবিক বিভাগে হওয়া উচিত ছিল। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে চলে যান।

অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন, ভাই জাহিদ, চাচাতো ভাই মোর্শেদুলসহ ৬-৭ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে হামলা চালান। তারা অফিস সহকারী মামুনুর রশিদকে মারধর এবং অফিসের কম্পিউটার, প্রিন্টার, টেবিল, চেয়ার ও আলমিরাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

ভর্তি বিজ্ঞান বিভাগে, মানবিকে রেজিস্ট্রেশন করা নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা

এসময় বিদ্যালয়ের সততা স্টোরের মালামাল, টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সময় আতংকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে হামলাকারীরা অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে চলে যান। কেউ তালা খোলার চেষ্টা করলে পরিণতি খারাপ হবে বলেও হুমকি দেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দুলাল চন্দ্র বসাক বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন সংশোধনের সুযোগ এখনো রয়েছে। তারপরও তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছেন।’

অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থী হুমায়রা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ত এবং সেভাবেই তার রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। পরে তারা জানতে চাইলে বলা হয়, চাইলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এরপরই তারা এসে আমাকে মারধর, অফিস ভাঙচুর এবং কাগজপত্র ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।’

ভর্তি বিজ্ঞান বিভাগে, মানবিকে রেজিস্ট্রেশন করা নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা

বিদ্যালয়ের আয়া মাহবুবা খাতুন বলেন, ‘হঠাৎ দেখি কয়েকজন কোদাল ও লাঠি হাতে অফিস কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতংকে দৌড়াদৌড়ি করছিলেন।’

তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বড় ভাই জাহিদ বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, তবে কাউকে মারধর বা ভাঙচুর করিনি।’

কালাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করি। সেখানে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর অবস্থায় দেখা গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আঁওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মস্তফা খান বলেন, রেজিস্ট্রেশন সংশোধনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মাহফুজ রহমান/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।