ইয়াবাসহ আটক
অভিযুক্তকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে বেকায়দায় বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মাদকসহ আটক হওয়া এক আসামিকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপি- জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ নেতাকর্মী। থানা হেফাজতে থাকার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মুচলেকায় ছাড়া পান তারা।
রোববার (১০ মে) বিকেল ৪টায় ভবিষ্যতে তারা আর কখনো থানায় এ ধরনের অনৈতিক তদবির করবেন না মর্মে পৃথক মুচলেকা দিলে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর থানার আমলা ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সদরপুর ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কলেজ সড়ক এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নওদা আজমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রবিউলকে আট পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।
মাদকসহ রবিউল গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির পাঁচ নেতা- কর্মী মিরপুর থানায় উপস্থিত হন। তারা হলেন সদরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ও বিএনপি নেতা এনামুল হক এবং স্থানীয় জামায়াতের কর্মী সুজন আলী, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।
থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মাদক কারবারিকে মুক্ত করার দাবিতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদবির করতে আসা ওই পাঁচজনকেই আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এদিকে আটকদের মধ্যে চারজন তাদের সমর্থক বলে স্বীকার করেছে জামায়াত। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মহিউদ্দিন জানান, আটক চারজন সরাসরি জামায়াতের কোনো পর্যায়ের কমিটিতে নেই। তবে তারা জামায়াতের সমর্থক। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ সির্বাচনে দলের পক্ষ নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন।
অন্যদিকে আটক হওয়া সদরপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার এনামুল হক বিএনপির কেউ নন বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান।
মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া রবিউলের বিষয়ে এলাকাবাসীরা জানান, তিনি একজন পেশাদার মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে এর আগেও মিরপুর থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, একসময় এনামুল আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি সদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা অনৈতিকভাবে তদবির করছিলেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তারা হয় এই মাদক কারবারির সঙ্গে সরাসরি জড়িত অথবা তারা কারবারিদের উৎসাহ দেন।
তিনি আরও বলেন, তারা আর কখনো থানায় এ ধরনের অনৈতিক তদবির করবেন না মর্মে পৃথকভাবে মুচলেকা দিলে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। গ্রেফতার রবিউলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আল-মামুন সাগর/এসআর/এমএস