জাগো নিউজ সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে: আইএসপিএবি সভাপতি
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজের এক যুগ পূর্তিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম।
তিনি বলেন, এক যুগ সফলভাবে অতিক্রম করা মানেই সংবাদমাধ্যম হিসেবে জাগো নিউজ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। গণতন্ত্রের অভিভাবক হিসেবে সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। সেই জায়গা থেকে বলা যায়, জাগো নিউজ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
রোববার (১০ মে) বিকেলে জাগো নিউজ কার্যালয়ে সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হকের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর উপস্থিত ছিলেন।
আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসেবে জাগো নিউজ এমন সময়ে যাত্রা শুরু করেছে, যখন মানুষ মাল্টিপল সোর্স থেকে তথ্য গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। এক্ষেত্রে জাগো নিউজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভীক সাংবাদিকতা আরও শক্তিশালী হোক। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার চুলচেরা বিশ্লেষণ পাঠকের সামনে তুলে ধরুক সংবাদমাধ্যম।
আইএসবিএবি সভাপতি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী রয়েছে। এছাড়া মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ৮ থেকে ১০ কোটির মধ্যে। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী সময়ে মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সংবাদপাঠ—সবকিছুই এখন অনেক বেশি ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, দেশে এখনো ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের পেনিট্রেশন রেট মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ, যেখানে এটি অন্তত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হওয়া উচিত ছিল। সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি বাসাবাড়িতে ১০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হলেও সে লক্ষ্য অর্জনে এখনো অনেক পথ বাকি। ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত বিনিয়োগনির্ভর একটি খাত। তাই উচ্চ করহার কমিয়ে আনতে হবে। ফাইবার অপটিক, ওএনইউ, রাউটার, সুইচ ও ওয়াইফাই ডিভাইসের ওপর বিদ্যমান উচ্চ কর কমানো প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিক্সড ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন ১০ শতাংশ বাড়লে জিডিপিতে প্রায় ১.৩ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি যোগ হতে পারে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখতে পারে।
ডিজিটাল বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, আমরা একটি ইনক্লুসিভ ইন্টারনেট ব্যবস্থা চাই। শহর ও গ্রামাঞ্চলের ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে এনে সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে হবে।
ইএইচটি/ইএ