সভামঞ্চে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ক্ষমা চাইতে হলো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ এএম, ১৬ মে ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি ‘ভুলবশত’ হয়েছে উল্লেখ করে সভাস্থলেই দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে উপস্থিত মাকলাহাট গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা প্রবীণ ওই মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে জনসম্মুখে মাইকে পুনরায় ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। পরিস্থিতির কারণে এখন এই স্লোগান দেওয়া হয়ত অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমি মুখ ফসকে বলে ফেলার পর সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকারও করেছিলাম। তা সত্ত্বেও আমাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত ও মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।’

ঘটনার বিষয়ে হাজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ জানান, ‘আলাউদ্দিনের বর্তমানে দলে কোনো সাংগঠনিক পদে নেই। অতীতেও তার বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। মূলত রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই সে নিজেকে যুবদল নেতা দাবি করছে।’

অন্যদিকে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদল নেতা দাবি করে বলেন, ‘স্লোগান দেওয়ার পর উপস্থিত সবাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। শুধু আমি একা নই, অনেকেই প্রতিবাদ করেছে। পরিস্থিতির চাপে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।’ তবে আলাউদ্দিন তার দলীয় পদের কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

নওগাঁ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মূল স্লোগান ছিল এটি, যদিও পরবর্তী সময়ে এর অপব্যবহার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

আরমান হোসেন রুমন/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।