গরমে হাঁসফাঁস, তাপদাহে পুড়ছে যশোরের প্রাণ-প্রকৃতি
জ্যৈষ্ঠ্যের শুরুতেই খরতাপে পুড়ছে যশোরের প্রাণ-প্রকৃতি। গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে জনজীবন। শুক্রবার (১৫ মে) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আগুনে পুড়েছে যশোর। এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে চৈত্রের শেষভাগ এবং বৈশাখেও কয়েকদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করেছে যশোরে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার দেশের ১৩ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। আগামী দু-এক দিন এই তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। তবে এ সময় দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টিও থাকতে পারে।
শুক্রবার খুলনা বিভাগের সব জেলায় এবং মাদারীপুর, ফরিদপুর ও নোয়াখালী জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। খুলনা বিভাগের জেলার সংখ্যা ১০। এর সঙ্গে বাকি তিনটি মিলিয়ে মোট ১৩ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।
যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে যশোরে এই তাপপ্রবাহে গোটা প্রাণ-প্রকৃতি দগ্ধ হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তা, ঘাট, ফসলের ক্ষেতে চোখ ঝলসানো উত্তাপ বিরাজ করে। ঘরের বাইরে বের হলেই আগুনের হল্কা গায়ে লাগছে। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
যশোর শহরের লালদীঘিপাড়ে আখের রস বিক্রি করেন আবদুল জলিল। তিনি জানালেন, প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ আসছে আখের রস খেতে। কিন্তু রস বিক্রি করতেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না। ছায়া খুঁজে দাঁড়িয়ে রস বিক্রি করতে হচ্ছে।
যশোর শহরের রেলগেট এলাকার রিকশা চালক আলী হোসেন বলেন, প্রচণ্ড গরমে গায়ে যেন আগুনের ধাক্কা লাগছে। একটু রিকশা চালালেই ঘামে গা ভিজে যাচ্ছে। গরমে মাথা ঘুরে উঠছে।
দড়াটানা এলাকায় রিকশাচালক হোসেন মিয়া বলেন, গরমে রিকশা চালালে গায়ে যেন আগুনের ছ্যাঁকা লাগছে। তারপরও রিকশা চালাতে হচ্ছে। কিন্তু ঠিকমতো ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। গরমে বাইরে মানুষ কম আসছে। দড়াটানা চৌরাস্তা থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নিয়ে গেলেও খালি ফিরে আসতে হচ্ছে। যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।
মিলন রহমান/এফএ/এএসএম