বাগেরহাটে কোরবানির হাট কাঁপাচ্ছে মামা-ভাগ্নে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ১০:৫৭ এএম, ১৬ মে ২০২৬

বাগেরহাটে কোরবানির পশুরহাট জমতে শুরু করেছে। জেলার বিভিন্ন খামারে ছোট বড় হাজারো গরু প্রস্তুত করা হলেও সবার নজর কেড়েছে ইব্রাহিমের বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড় মামা ও ভাগ্নে।

সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের নাজমা ডেইরি ফার্মের হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের এই মামা-ভাগ্নের ওজন যথাক্রমে ১১০০ ও ১২০০ কেজি। এই বিশাল আকৃতির ষাঁড় দুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর দূরান্ত উৎসুক জনতা ভিড় করছেন ফার্মটিতে।

জানা গেছে, বাগেরহাটের হাকিমপুর গ্রামের যুবক ইব্রাহিম হোসেনের নাজমা ডেইরি ফার্মে জন্ম নেওয়া মামা-ভাগ্নে এখন বাগেরহাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড় দুটিকে প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার খাবার খাওয়ানো হয়। মামা-ভাগ্নেকে খড়, ঘাস, ভুষি ও ভুট্টার গুঁড়াসহ দেশীয় বিভিন্ন খাবার খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা হয়েছে। বিশাল আকৃতি মামা নামের ষাঁড়টির বয়স ২ বছর ৩ মাস ও ভাগ্নে নামের ষাঁড়টির বয়স ২ বছর ৫ মাস। ষাঁড় দুইটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট ও উচ্চতা ৬ ফুট।

বাগেরহাটে কোরবানির হাট কাঁপাচ্ছে মামা-ভাগ্নে

খামার মালিক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আমি প্রায় ২২ বছর ধরে খামারে গরু লালন পালন করছি। কোরবানির জন্য এই প্রথমবারের মতো এত বড় দুটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। বাগেরহাট জেলায় সবচেয়ে বড় গরু দুটি এই মামা-ভাগ্নে। এই দুটি গরু ছাড়াও খামারে আরও ৯টি গরু রয়েছে। কোরবানির জন্য মামা নামের গরুটি ৮ লাখ টাকা ও ভাগ্নে নামের গরুটির ১০ লাখ টাকা প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করেছি। ন্যায্যমূল্য পেলে বিক্রি করে দিব।

খামার মালিক ইব্রাহিমের মা নাজমা বেগম বলেন, এই খামারটি আমার ছেলে একটা গরু দিয়ে শুরু করেছিল, এখন বড় দুটি গরুসহ মোট ১১টা গরু আছে। দেশীয় খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি এদের দুইবেলা গোসল করাই। সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। গরমের সময় এদের জন্য ফ্যান চালিয়ে রাখি। পরিবারের সকলে মিলে এদের সন্তানের মতোই লালন পালন করি।

বাগেরহাটে কোরবানির হাট কাঁপাচ্ছে মামা-ভাগ্নে

স্থানীয় বাসিন্দা মুন্সী ফরাজী বলেন, ইব্রাহিম ভাই ছোট বেলা থেকেই খামারটিতে গরু লালন পালন করেন। একটা গরু দিয়েই খামারটি শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার ১১টি গরু রয়েছে। খামারটির পেছনে তিনি অনেক পরিশ্রম করেন। জীবনে প্রথম এত বড় গরু দেখছি। খামারটি দিয়ে সে সফল।

বাগেরহাট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, বাগেরহাটের হাকিমপুরে নাজমা ডেইরি ফার্মে জেলার সবচেয়ে বড় গরু দুটি রয়েছে। একটা ১১০০ কেজি, আরেকটা ১২০০ কেজি। খামারিরা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছে। আশা করছি তারা ভালো দামে গরু দুটি বিক্রি করতে পারবে।

নাহিদ ফরাজী/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।