কারিনার মৃত্যুতে শোক
কত সহজে কত দ্রুত একটা প্রাণ চলে গেল
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা গেছেন। লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মে দিবাগত রাত দেড়টায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করছেন অনেকেই। কেউ কেউ করছেন স্মৃতিচারণ।
তানজিনা রহমান তাসনিম একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এই ছবিটা ১৬ মার্চ তোলা। আজকে ১৬ মে! একদম দুই মাস আগে। একসাথে আলাদা-এর প্রিমিয়ারে আমার ফোনে আমি একটাই সেলফি তুলেছিলাম। আর সেটা এই ছবি! ঈদে কনটেন্টটা রিলিজের আগে-পরে আমাদের অনেক অনেক কাজের আলাপ হয়ছে। আমার কাছে সবকিছু খুবই অস্বাভাবিক লাগছে। কারিনা খুব তাড়াতাড়ি আমাদের দেখা হবে!’
মামুন সোহাগ লিখেছেন, ‘একই ফ্রেমে আর দেখা যাবে না এই দুই বান্ধবীকে! ডানা মেয়েটা যেন আজ সত্যিই তার একটা ডানা হারিয়ে ফেললো। ফুটবলার কায়সার হামিদের মেয়ে, দাবার রানি রানী হামিদের নাতনি। ফেসবুকে কারিনা আর ডানার কনটেন্টগুলো প্রায়ই সামনে আসতো, অভিনয়ও দেখেছি।’
মামুন লিখেছেন, ‘একদম আমাদের জেনারেশনের মেয়ে, তাই ওর সবকিছু আমাদের নিজেদের আড্ডা, নিজেদের গল্পের মতোই মনে হতো। অথচ কত সহজে, কত দ্রুত একটা প্রাণ চলে গেল! কিন্তু পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বড় পাথরটা চেপে বসেছে হয়তো বাবা কায়সার হামিদের বুকে। গুজব কি না খবরটা জানতে কথা বলি তার সঙ্গে। একজন বাবার পক্ষে নিজের মেয়ের মৃত্যুর খবর জানানো কতটা যে নির্মম, তা ভাবাও যায় না। বুকটা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেলেও তিনি যখন শক্ত গলায় বললেন, মেয়ের প্রেশার নেমে যাচ্ছিলো... তখন আর স্বাভাবিক হয়নি। জানাবো আমি, কবে মরদেহ দেশে আসে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘শুনে মনে হলো, পুরুষ মানুষ আসলেই কত কঠিন হতে পারে। ভেতরটা একদম শেষ হয়ে গেলেও বাইরে এই কঠিন খোলসটা এদের ধরে রাখতেই হয়। পুরুষ কঠিন, এটা মেনে নিতেই হয়। পরিবারের বড় সন্তান ছিল কারিনা। বড়রা কেন যেন সব সময় একটু বেশি সাহসী হয়, সবার আগে চলে যেতেও ওদের ভয় করে না।’
এলজেড লাবনী লিখেছেন, ‘বিদায় কারিনা কায়সার। চেন্নাইতে কিছুক্ষণ আগে উনি মারা গিয়েছেন, তার বাবা কনফার্ম করলেন। মানুষের লাইফ খুব অদ্ভুত। পারফেক্ট সময় বলে কিছু নেই, যার যেটা অবধারিত সেটাই হবে। উনার ৩৬-২৪-৩৬ নাটকটা দেখে নাটকে উনার ক্যারেক্টারটার জন্য আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। সেইম কষ্ট এই এত রাতে আজকে আবার পেলাম। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
সুফিয়ান রায়হান লিখেছেন, ‘ডিয়ার ক্রিয়েটর! কারিনা কায়সার এইটুকু হায়াত নিয়েই এসেছিলেন! আই অ্যাম আ ফ্যান অব ইওরস। রেস্ট ইন পিস। ইউ ভয়েস মেক জুলাই গ্রেটার। সহযোদ্ধার এই প্রয়াণে আমি শোকাহত। ৩ আগস্ট ২০২৪। আমাদের দফা এক, দাবি এক ছিল।’
জুলকারনাইন সায়ের লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন—কারিনার মা, বাবা, ভাই, নিকটাত্মীয়, স্বজন ও বন্ধুদের এই শোক সহ্য করার মতো ক্ষমতা আল্লাহ দিন, এই প্রার্থনা করছি। অত্যন্ত প্রাণবন্ত একটা জীবন যে মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে, কারিনার অকালমৃত্যু সেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি করলো আমাদের।’
এসইউ