গাজীপুরের আলোচিত ৫ খুন মামলার আসামির মরদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ১৬ মে ২০২৬
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করছে ফায়ার সার্ভিসর সদস্যরা/ছবি: জাগো নিউজ।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, শ্যালক ও তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার (৪০) মরদেহ মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার ঘোড়দৌড় বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও লৌহজংয়ের মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির (ইনচার্জ) মো. ইলিয়াস।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন বাজারের পাশে দুপুরে পদ্মায় একটি ভাসমান মরদেহ দেখে স্থানীয়রা নৌপুলিশকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মাওয়া নৌপুলিশ নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে। এরপর ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অভিযুক্ত ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর পুলিশের হেফাজতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু থেকে লাফ দিয়ে আলোচিত হত্যা মামলার আসামি ফোরকানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে সরকারিভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আসলে আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে নদীজুড়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি।

মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান, আজ শনিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় খবর পাঠানো হলে মামলার বাদী, ফোরকানের পরিবারের সদস্য ও তদন্ত কর্মকর্তা লাশটি প্রাথমিকভাবে ফোরকানের বলে ধারণা করেন।

নৌপুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, মরদেহ বেশকিছু দিন পানিতে থাকায় অর্ধগলিত হয়ে গেছে। তাই পুরোপুরি পরিচয় নিশ্চিত হতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেটি সম্ভব না হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসের হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, ফোনটি তিনি পদ্মা সেতুতে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। এই সূত্র ধরে পুলিশ পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে।

ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে তার মোবাইলটি ফুটপাতে রাখেন। এরপর দু-তিন মিনিট অপেক্ষা করে তিনি রেলিং টপকে নদীতে লাফ দেন। ভিডিওটি দেখে মামলার বাদী ও ফোরকানের ভাই লাফ দেওয়া ব্যক্তি ফোরকান বলেই ধারণা করেন। তবে চেহারা স্পষ্ট না থাকায় তখন শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানায়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় তিনি সেখানে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ৯ মে হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকানকে গ্রেফতারে পুলিশের তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের গ্রামের বাড়ি এবং আরেকটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। তবে উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই হত্যাকাণ্ডে ফোরকান ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

গত শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), তাদের তিন সন্তান মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মোল্লা (২৩)। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান পলাতক ছিলেন।

শুভ ঘোষ/কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।