নিষেধাজ্ঞার ২৮ দিনেও মেলেনি চাল, কর্মহীন জেলে পরিবারে বাড়ছে ঋণের বোঝা
সাগরে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে ২৮ দিন ধরে। কিন্তু এখনো সরকারি বরাদ্দের চাল পাননি পিরোজপুরের হাজারো সমুদ্রগামী জেলে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোতে বাড়ছে খাদ্যসংকট, ঋণের চাপ ও অনিশ্চয়তা।
একদিকে আয় বন্ধ। অন্যদিকে এনজিওর কিস্তি, মহাজনের ঋণ আর পরিবারের খাবারের চিন্তায় দিশেহারা জেলেরা। কেউ জাল সেলাই করছেন, কেউ ট্রলার মেরামতে সময় কাটাচ্ছেন। আবার অনেকেই কাজের খোঁজে ছেড়েছেন ঘাট।
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটজুড়ে সারি সারি নোঙর করে রাখা হয়েছে সাগরে যাওয়া মাছ ধরা ট্রলার। যেখানে কাকডাকা ভোরে লাখ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা চলত, সেখানে এখন শুনসান নীরবতা। নিষেধাজ্ঞার এই সুযোগে ঘাটে অলস বসে থাকা জেলেদের কেউ বুনছেন জাল, আবার কেউবা ব্যস্ত রয়েছেন ট্রলার মেরামতে। কাজ না থাকায় অনেক জেলেই বাড়ি ফিরে গেছেন, আবার অনেকে বিকল্প কাজের সন্ধান করছেন।

জেলেরা জানান, এবার ভারতের সঙ্গে মিল রেখে সাগরে ৫৮ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিবেশী দেশের জেলেরা একপেশে সুবিধা পাবেন না এবং সাগরে মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে দীর্ঘ এই অবরোধে সরকারি সহায়তা সময়মতো না পৌঁছানোয় জেলেরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
ট্রলার মেরামত শ্রমিক আব্দুল জব্বার জাগো নিউজকে বলেন, ‘অবরোধের কারণে ট্রলারগুলো ডকে ওঠানো হয়েছে। তাই এখন কাঠ ও রঙের মিস্ত্রিদের পুটিং-আলকাতরা মারার কাজের চাপ একটু বেশি।’
সমুদ্রগামী জেলে কায়সার আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবরোধের অনেক দিন হয়ে গেল, এখন পর্যন্ত আমরা চাল পাইনি। মাঝেমধ্যে দুই-একদিন কাজ হলেও অন্য দিনগুলোয় কোনো কাজ থাকে না। এর মধ্যে কিস্তির লোক এসে বাড়ির দুয়ারে বসে থাকে।
আরেক জেলে মহসিন শেখ বলেন, পরিবারে ছয়জন লোক, খাইতে-লইতে অনেক কষ্ট হয়। কেউ অসুস্থ হলে ধারদেনা করে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।

জেলে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, রোজ এনে রোজ খাই, বর্তমানে কোনো আয় নেই। নাতি এসে ভাত চাইলে গরম ভাত দিতে পারি না। নিজেরাও না খেয়ে থাকি।
পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত এ বিষয়ে জানান, জেলেদের ৫৮ দিনের সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এই সময়ে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে তালিকাভুক্ত জেলেদের প্রতি পরিবারকে ৭৭ দশমিক ৩৩ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা শেষে এবার জেলেরা সাগরে পর্যাপ্ত মাছ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলেদের জন্য সময়মতো পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে উপকূলীয় এলাকায় মানবিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।
মো. তরিকুল ইসলাম/কেএইচকে/এমএস