টেন্ডার নিয়ে দ্বন্দ্বে হামলা, প্রকৌশলীসহ আহত ৩

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ১৭ মে ২০২৬
হামলায় আহত প্রকৌশলী মো. আসলাম মোল্লা ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জামিল হাসান

নেত্রকোনার মদন পৌরসভায় এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরুকে কেন্দ্র করে পৌরসভা কার্যালয়ে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পৌরসভার প্রকৌশলী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও এক হিসাবরক্ষক আহত হয়েছেন। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে মদন পৌরসভা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মদন থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি দাতা সংস্থা এডিবির অর্থায়নে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মদন পৌরসভা। প্রকল্পের আওতায় ২৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৯ হাজার ৬১১ মিটার সড়ক উন্নয়ন, বিভিন্ন স্থানে আরসিসি ড্রেন, বক্স কালভার্ট, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, এক্স-ড্রেন নির্মাণ, সুরক্ষাকাজ ও বৃক্ষরোপণের কাজ রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল মদন পৌরসভার প্রশাসক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রকল্পের সাইট বুঝে নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আসলাম মোল্লা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জামিল হাসানের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এসময় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকে হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও রামদা নিয়ে এসে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জামিল হাসান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. আসলাম মোল্লা ও হিসাবরক্ষক আব্দুর রশিদকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে আগেই অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাদের।

পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জামিল হাসান, ‘আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব বির্পযস্ত। এ নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও পৌরসভার প্রশাসক বলেছেন মামলা করতে, আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি এটাতে যাবো না। আমি মানসিকভাকে খুব বিপর্যস্ত।’ এসব কথা বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্রকৌশলী মো. আসলাম মোল্লা বলেন, ‘আমরা নিয়মমাফিক টেন্ডার দিয়ে কাজটি পাই। এরপর প্রথমে কাজটি না করার জন্য স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি নিষেধ করে। কাজটি বুঝে নিতে এলে পৌরসভার ভেতরে আমাদের ওপর হামলা করে। পরে মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা কিছুক্ষণ পর প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাওনিন নাহার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হলে পৌরবাসী কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কামাল হোসাইন/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।