হাট কাঁপাতে প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ‘মহারাজা-রাজাবাবু’
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘মহারাজা’ ও ‘রাজাবাবু’ নামের বিশালাকৃতির দুটি ষাঁড়। বিশাল দেহ ও দৃষ্টিনন্দন গঠনের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন খামারে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ।
উপজেলার চাঁন্দপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইউপি সদস্য ও খামারি শহীদুজ্জামান সেলিমের খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করেছেন এই ষাঁড় দুটি।
খামার সূত্রে জানা গেছে, ফ্রিজিয়ান ও শাহীওয়াল মিশ্র জাতের কাজল-কালো রঙের ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ‘মহারাজা’র দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৫ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার সাদা-কালো মিশ্র রঙের ‘রাজাবাবু’র দাম চাওয়া হচ্ছে ১৩ লাখ টাকা।

খামার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তেজোদীপ্ত এই ষাঁড় দুটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক সময় ছয় থেকে আটজন মানুষের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে ‘রাজাবাবু’ যখন ছুটে চলে, তখন নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের মানুষ দূরে সরে যান।
খামারি শহীদুজ্জামান সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস, ছোলাবুট, ভুট্টা, ভুসি, ধানের কুঁড়া ও খৈল খাইয়ে এদের মোটাতাজা করা হয়েছে। এদের প্রতিদিন দুই বেলা সাবান-শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয় এবং খামারে সার্বক্ষণিক বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, তিন বছর আগে শখের বশে গরু মোটাতাজাকরণ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে এই খামারে আরও বেশ কয়েকটি ষাঁড় ও গাভি রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান জানান, এবার জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭৫ হাজার ২৬৭টি ষাঁড়, ৪ হাজার ১৩৪টি বলদ, ১৭ হাজার ৮৮৬টি গাভি, ৩ হাজার ৮৩৬টি মহিষ, ৮৪ হাজার ৯৪৩টি ছাগল এবং ৫ হাজার ২৯৮টি ভেড়া। জেলার প্রায় ৫৩৩টি খামার ও প্রান্তিক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে পশু মোটাতাজাকরণে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে খামারিরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে সচেতন হয়েছেন। ক্ষতিকর রাসায়নিক ও স্টেরয়েড ব্যবহার বন্ধে জেলা জুড়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসকে রাসেল/কেএইচকে/জেআইএম