রংপুরে কমেছে সবজি-মুরগির দাম
রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পোলট্রি মুরগির দাম। সেইসঙ্গে দাম কমেছে অধিকাংশ সবজির। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে ডিমসহ চাল-ডাল ও মাছ-মাংসের দাম।
মঙ্গলবার (১৯ মে) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকা থেকে কমে ৩০০-৩১০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা থেকে কমে ২৭০-২৮০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার ৩৩০-৩৪০ টাকা থেকে কমে ৩২০-৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের মতোই ৪৬-৪৮ টাকা।
বাজারে গরুর মাংস অপরিবর্তিত ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০- থেকে ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুলাটোল আমতলা বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, সোমবারের তুলনায় আজকে মুরগির দাম সামান্য কমেছে। তবে যেকোনো মুহূর্তে আবার দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঈদের ৫ থেকে ৭ দিন আগে দাম বাড়ে।
এদিকে, সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো গত সপ্তাহের মতোই ৭০-৮০ টাকা, গাজর ১২০-১৪০ টাকা থেকে কমে ১০০-১২০ টাকা, কাঁকরোল গত সপ্তাহের মতোই ৭০-৮০ টাকা, ঝিংগা ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা, চালকুমড়া আগের মতো প্রতিপিস (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকা, কাঁচকলার হালি ৩০-৩৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৬৫-৭০ টাকা থেকে কমে ৪৫-৫০ টাকা, সজনে ১৪০-১৬০ টাকা থেকে কমে ১২০-১৩০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া লেবুর হালি গত সপ্তাহের মতোই ১৫-২০ টাকা, চিকন বেগুন ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা, গোল বেগুন গত সপ্তাহের মতোই ৭০-৮০ টাকা, পটল ৫০-৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ টাকা, পেঁপে আগের মতো ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ থেকে কমে ৬০-৭০ টাকা, করলা গত সপ্তাহের মতোই ৭০-৮০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৫০-৬০ টাকা, কচুরলতি ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৬০-৭০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা ৮০-১০০ টাকা থেকে কমে ৫০-৭০ টাকা, সব ধরনের শাকের আঁটি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, শুকনো মরিচ আগের মতোই ৩৫০-৪০০ টাকা, কার্ডিনাল আলু ১৫-১৬ টাকা, সাদা আলু ২৫-৩০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩০-৩৫ টাকা, শিল আলু ৩০-৩৫ টাকা এবং ঝাউ আলু ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের মতোই ৮০-১০০ টাকা, পেঁয়াজের দাম সামান্য কমে ৪০-৪৫ টাকা, দেশি আদা গত সপ্তাহের মতোই ১৮০-২০০ টাকা, আমদানি করা আদা ১২০-১৩০ টাকা, দেশি রসুন ১০০-১২০ টাকা এবং ভারতীয় রংপুর ২২০-২৩০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আদর্শ পাড়া বৌ বাজারের সবজি বিক্রেতা হামিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম সামান্য হারে কমেছে। যদি বৃষ্টির প্রকোপ না বাড়ে তাহলে কোরবানির ঈদের আগে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০-২০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, মাঝারি ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১০০-১০৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫০-৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা, খোলা আটা ৪০-৪৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা, বিআর২৮- ৬৫-৭০ টাকা, বিআর২৯- ৬০-৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৬০-৬৫ টাকা, মিনিকেট ৮৫-৯০ এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ ৩০০-৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৫০ টাকা, কারপু ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, বাটা ১৮০-২৪০ টাকা, শিং ৩০০-৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০-২৬০ টাকা এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জিতু কবীর/এনএইচআর/এমএস