হাটে না উঠতেই ফরিদপুর কাঁপাচ্ছে জেলার সবচেয়ে বড় গরু রাজাবাবু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:০৫ এএম, ১৭ মে ২০২৬

সামনেই কোরবানির ঈদ। ফরিদপুরে কোরবানি উপলক্ষে একটি গরুর নাম রাখা হয়েছে রাজাবাবু। জেলার মধ্যে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গরু। সবার নজর এখন ৩০ মণের বিশাল সেই ‘রাজাবাবু’র দিকে। এই দানব আকৃতির গরুটিকে দেখতে প্রতিদিন মানুষ ভিড় করছে।

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সব খামারিরা এখন মহাব্যস্ত। এবার জেলায় চাহিদার চেয়েও বেশি গরু-খাসি প্রস্তুত আছে। তাই খামারিদের চোখেমুখে এখন আনন্দের হাসি। নাওয়া-খাওয়া ভুলে তারা গরু-ছাগলের যত্নে ব্যস্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের দেবিনগর গ্রামের কৃষক আদু মন্ডল সাড়ে তিন বছর ধরে একটি গরু বড় করেন। আদর করে নাম রাখেন রাজাবাবু। ৩০ মণ ওজনের রাজাবাবু লম্বায় ৯ ফুট আর উচ্চতায় ৬ ফুট। ফ্লেকভি জাতের এ গরুটি এখন চার দাঁতের। দেখতে বিশাল হলেও রাজাবাবু খুবই শান্ত। এই গরু দেখতে আদু মন্ডলের বাড়িতে সারাদিন ভিড় লেগে থাকে।

হাটে না উঠতেই ফরিদপুর কাঁপাচ্ছে জেলার সবচেয়ে বড় গরু রাজাবাবু

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সূত্র মতে, ফরিদপুরে এবার পশুর চাহিদা ৯০ হাজারের মতো। তবে মজুত আছে ১ লাখ ৩ হাজারের অধিক। ৮ হাজারের বেশি খামারের গরু এখন স্থানীয় বাজার পেরিয়ে সারা দেশে যাওয়ার অপেক্ষায়। তবে বিপত্তি বেঁধেছে পশুখাদ্যের দাম নিয়ে। দাম বেশি হওয়ায় লাভের অঙ্ক নিয়ে চিন্তায় খামারিরা। তবে হাটে কোনো অসুস্থ বা ইনজেকশন দেওয়া গরু যেন না ওঠে, সেজন্য কাজ করছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

রাজাবাবুর মালিক আদু মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, আমার একটি গাভীর পেট থেকে রাজাবাবুর জন্ম। জন্মের পর থেকে তাকে আমি লালনপালন করছি। সভ্যশান্ত,আমাদের সঙ্গে কোনো কাউতালি করে না। এইজন্যই তার নাম রেখেছি রাজাবাবু। আমার নিজস্ব চাষ করা ঘাস, খড়, ভুষি খাইয়েছি। বাইরের কোনো খাবার খাওয়াইনি। গত বছর গরুটি বিক্রি করতে পারিনি। এবার বিক্রি করে দেবো। তবে আমি কোনো দাম চাইবো না। যে কিনতে আসবে আলোচনা করে তার কাছে দাম চাইবো। রাজাবাবুর ওজন ৩০ মণ অর্থাৎ ১২০০ কেজি।

তিনি আরও বলেন, আমি ঘাস লাগাই, ধান লাগাই। আমি ধানের ভাত খাই, ওকে খড় খাওয়াই। ফরিদপুর জেলার মধ্যে আমার রাজাবাবু সবচেয়ে বড়। সে যে হাটে উঠবে সেই হাট কাঁপাবে। যিনি কিনে নিবেন তিনি জিতবেন। আমি কোনো অবৈধ খাদ্য-খানা ওর পেটে দেইনি। ওর এ পর্যন্ত কোনো অসুখও হয়নি।

হাটে না উঠতেই ফরিদপুর কাঁপাচ্ছে জেলার সবচেয়ে বড় গরু রাজাবাবু

আদু মন্ডলের স্ত্রী সাহেরা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, রাজাবাবুকে খুব আদর-যত্ন করে নিজের সন্তানের মতো লালন পালন করেছি। ওর আচরণ রাজার মতো বলে শখ করে নাম রাখা হয়েছে রাজাবাবু। গরুটি অনেক শান্ত। তার বয়স সাড়ে তিন বছরের মতো। প্রতিদিন মানুষ দেখতে আসছে। কিন্তু কেনার জন্য তেমন কেউ আসেনি। বাড়ি থেকে বিক্রি না হলে হাটে তুলতে হবে। বিক্রির কথা শুনলে ওর জন্য খুব মায়া লাগে।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়নাল শেখ ও ইয়াছিন মোল্লা বলেন, জেলার সবচেয়ে বড় গরুর নাম শুনে প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ দেখতে আসছে। আমরা সারা বছর কাছ থেকে দেখেছি। গরুটিকে দেশি খাবার ছাড়া অন্য কিছু খাওয়াতে দেখিনি।

ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ. কে. এম আসজাদ জাগো নিউজকে বলেন, এবার ফরিদপুরে বড় গরুর সংখ্যা খুব কম। মাঝারি সাইজের গরুর সংখ্যা বেশি। এবার রাজাবাবু নামের ৩০ মণ ওজনের এই গরুটি জেলার সবচেয়ে বড় গরু। জেলায় এবার চাহিদার চেয়ে বেশি পশু রয়েছে। আর ৩০ মণের রাজাবাবু এবার ফরিদপুরের কোরবানির হাট মাতাবে।

তিনি আরও বলেন, জেলার নয়টি উপজেলার খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং নিরাপদ মাংস উৎপাদন জন্য তাদেরকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। জেলায় এবার ৮ হাজার ১৬৯ জন খামারি ১ লাখ ৩ হাজার ৩৬১টি গরু লালন পালন করছেন। এবার চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ৮৬৪টি। এ জেলায় কোরবানির গরুর কোনো সংকট হবে না।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।