ডিভোর্সের পর নতুন সম্পর্কে বদলে যায় সমীকরণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ১৯ মে ২০২৬
ছবি: এআই

একটা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া শুধু দু’জন মানুষের আলাদা হয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে ভেঙে যায় বিশ্বাস, নিরাপত্তাবোধ, ভবিষ্যতের স্বপ্নসহ আরো অনেক কিছুই। বিশেষ করে বিয়ে ভাঙার অভিজ্ঞতা মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেয়। তাই ডিভোর্সের পর নতুন সম্পর্কে জড়ানোর সিদ্ধান্ত এখন আর শুধু আবেগের ওপর নির্ভর করে না। বরং মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন, ধীর এবং বাস্তববাদী হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডিভোর্সড, সেপারেটেড কিংবা বিধবা মানুষরা নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মানসিক নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে। ভালোবাসা এখনও আছে, তবে এবার সেটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সতর্কতা।

প্রথমেই সত্যতা যাচাই

প্রথম প্রেমের সময় অনেকেই আবেগে ভেসে যান। কিন্তু একবার সম্পর্ক ভাঙার অভিজ্ঞতা হয়ে গেলে মানুষ ছোট ছোট বিষয়ও খেয়াল করতে শুরু করেন। এখন অনেকেই নতুন কারো সঙ্গে পরিচয়ের পর তার কথাবার্তা, আচরণ, পারিবারিক ইতিহাস, কাজ কিংবা আগের সম্পর্ক নিয়ে ধীরে ধীরে বুঝতে চেষ্টা করেন। কেউ কী বলছে, সেটার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, সে একই কথা ধারাবাহিকভাবে বলছে কি না। অনেক নারী-পুরুষই মনে করেন, ছোটখাটো অসঙ্গতিও ভবিষ্যতের বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এখন মন ভোলানো গল্পের চেয়ে বাস্তবতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

jago

দ্রুত আবেগই বাড়ে সন্দেহ

ডিভোর্সের পর নতুন সম্পর্কে জড়ানো মানুষদের বড় একটি অংশ মনে করেন, আবেগ ধীরে ধীরে তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। প্রথম কয়েকদিনের পরিচয়েই যদি কেউ ‘তোমাকে ছাড়া বাঁচব না’ বা ‘তুমিই আমার সব’ ধরনের কথা বলতে শুরু করেন, তাহলে অনেকের কাছেই সেটা অস্বস্তিকর লাগে। কারণ তারা এখন বুঝতে শিখেছেন, গভীর সম্পর্ক সময় নিয়ে তৈরি হয়। দ্রুত আবেগ দেখানো অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে বেশি নাটকীয় মনে হতে পারে। বিশেষ করে যাদের সন্তান আছে, তারা আরও সতর্ক থাকেন। নতুন মানুষটি শুধু তাদের সঙ্গেই নয়, পরিবারের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারবেন কি না, সেটিও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

যেভাবে এগোবেন

এখন অনেকেই ইচ্ছা করেই সম্পর্কের গতি ধীরে রাখেন। চ্যাটে সবসময় সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই না দেওয়া, একটু দূরত্ব রেখে কথা বলা, এসবও অনেক সময় সচেতন কৌশল হয়ে উঠছে। এর উদ্দেশ্য একটাই যে সামনের মানুষটি কতটা ধৈর্যশীল, সেটি বোঝা। কেউ যদি সামান্য দূরত্বেই বিরক্ত হয়ে যান বা চাপ তৈরি করতে শুরু করেন, তাহলে অনেকেই সেটিকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, কেউ যদি সময় ও স্পেসকে সম্মান করেন, তাহলে ধীরে ধীরে তার প্রতি আস্থা তৈরি হয়।

ছোট ছোট আচরণেই বোঝা যায় অনেক কিছু

বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী অনেক সিঙ্গেলই নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে ‘মাইক্রো রিঅ্যাকশন’ বা ছোট ছোট প্রতিক্রিয়া খেয়াল করেন।তারা শুরুতেই সব ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করেন না। বরং ধীরে ধীরে কিছু বিষয় বলেন এবং দেখেন, সামনের মানুষটি কেমন প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি কি মন দিয়ে শুনছেন? সহানুভূতি দেখাচ্ছেন? নাকি বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন? এই ছোট ছোট আচরণ থেকেই অনেকেই সিদ্ধান্ত নেন, সম্পর্কটি সামনে এগোনো উচিত কি না।

এখন ভালোবাসার সঙ্গে নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ

একসময় সম্পর্ক মানেই ছিল আবেগ, রোম্যান্স আর স্বপ্ন। কিন্তু এখন মানুষ মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ একবার ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা মানুষকে শেখায়, শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দরকার সম্মান, ধৈর্য, সততা ও মানসিক নিরাপত্তা।

তাই এখনকার ‘সেকেন্ড চান্স’ আগের মতো হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। মানুষ এবার ভালোবেসেও সাবধানে এগোতে চান।

ডিভোর্সের পর নতুন সম্পর্কে জড়ানো সহজ নয়। সেখানে ভয় থাকে, অনিশ্চয়তা থাকে, আবার নতুন করে বিশ্বাস করতে শেখার চ্যালেঞ্জও থাকে। তবে একবার সম্পর্ক ভেঙেছে মানেই জীবন থেমে যাবে না বরং আগের অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ আরো পরিণত হয়ে ওঠে। তারা বুঝে শুনে, ধীরে ধীরে এমন একজন মানুষ খুঁজেন, যার সঙ্গে শুধু ভালোবাসা নয়, নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তিও পাওয়া যাবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, সাইকোলজি টুডে

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।