গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ছে যশোর
জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকেই শুরু হওয়া তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। সোমবার (১৮ মে) রাতের বৃষ্টিপাতেও কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে শুক্রবারও (১৫ মে) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল যশোরে।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের সর্বোচ্চ। এর আগে সোমবারও তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সন্ধ্যায় ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। রাতে যশোরে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। কিন্তু রাতের সেই স্বস্তি সকালেই মিলিয়ে যায়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বাড়তে থাকে সূর্যের তাপ। তেঁতে উঠতে শুরু করে প্রকৃতি। দুপুর নাগাদ তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই তাপপ্রবাহে গোটা এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি দগ্ধ হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট, ফসলের ক্ষেতে চোখ ঝলসানো উত্তাপ বিরাজ করছে।

ঘরের বাইরে বের হলেই আগুনের হল্কা গায়ে লাগছে। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষ রাস্তার পাশে জিরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাতে মুখে পানি দিয়ে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউবা শরবত, আখের রস, স্যালাইন পানিতে শরীর শীতল করার চেষ্টা করছেন।
যশোর শহরের সার্কিট হাউজ মোড়ে ডাব বিক্রেতা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ ডাব খেতে আসছে। কিন্তু গরমে ডাবের পানিও যেন গরম হয়ে যাচ্ছে। রোদে দাঁড়িয়ে ডাব বিক্রি করতে নিজের জানই বের হয়ে যাচ্ছে।’
শহরের খড়কি এলাকার রিকশাচালক জালাল হোসেন বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে গায়ে যেন আগুনের ধাক্কা লাগছে। একটু রিকশা চালালেই ঘামে গা ভিজে যাচ্ছে। গরমে মাথা ঘুরে উঠছে। যাত্রীও পাচ্ছি কম।’
গত পাঁচদিন ধরে জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার থেকেই যশোরে তাপপ্রবাহ বয়ে চলেছে।
মিলন রহমান/এসআর/এমএস