রাবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যাগিং, ছবি তোলা ও ভুল শিক্ষাবর্ষের পরিচয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও দুই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৮ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের সামনে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সিনিয়ররা জুনিয়রদের নিয়ে বসেছিলেন। পাশেই আড্ডা দিচ্ছিলেন অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর এসে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। পরে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির এক শিক্ষার্থী তাদের ছবি তুলে প্রক্টরকে খবর দিয়েছেন।
এ নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একই সময়ে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, ইইই বিভাগের এক শিক্ষার্থী তার ভিডিও ধারণ করেছেন। পরে দুই বিভাগের সিনিয়ররা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।
ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল জাবিদকে ডাকেন। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে সমঝোতা হয়। তবে পরে পরিবহন মার্কেটে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুস্মিতা রানী সরকারকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ ওঠে ইইই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই বিভাগের সিনিয়ররা ঘটনাস্থলে গেলে প্রক্টর ও রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার উপস্থিত হন। পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে সরিয়ে দেওয়ার সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকে চলা ঘটনার জেরে আজ পরিবহন মার্কেটে আবারও মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রক্টরিয়াল টিম সেখানে যায়। পরে সবাইকে বুঝিয়ে সরিয়ে নেওয়ার সময় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই বিভাগের সভাপতিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত বসবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসআর/এমএস