আত্রাইয়ে সড়ক ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় এলাকাবাসী


প্রকাশিত: ০৬:২৫ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৬

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নওগাঁ-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কের মির্জাপুর নামক স্থানে আবারও ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কটি যে কোনো সময় ভেঙে পরার আশঙ্কায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু এতে বিপাকে পরেছেন আত্রাই উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা ও রাস্তায় বালু দিয়ে নিম্নমানে কাজ করা হয়। এতে সরকারি লাখ টাকা পকেটে তোলায় পরপর দুই বছর একই স্থানে ভেঙে যায়।

ঊধ্বর্তন কর্মকর্তার নজদারিতে দ্রুত সড়কটি সঠিকভাবে রক্ষা করা ও অনিয়ম-দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এলাকাবাসী।

ফাটলের সংবাদ পেয়ে শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান ওই স্থান পরিদর্শন করে রাস্তা রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে ওই স্থানে মাটি ফেলে রক্ষার জন্য চেষ্টা করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

জানা গেছে, জেলার আত্রাই উপজেলার ভবানিপুর, মির্জাপুর, রসুলপুর, হাটকালুপাড়া এলাকায় আত্রাই নদী ও ছোট যমুনা নদীর মোহনা। গত বছর ২৩ আগস্ট ভোরে আত্রাই-নওগাঁ চলাচলের একমাত্র আঞ্চলিক সড়কের মির্জাপুর নামক একই স্থানে ভেঙে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানিবন্দী হয়ে পড়েন দেড় লাখ মানুষ। এতে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ওই সময় সড়কটির দুই পাশে ব্লক ও স্লুইস গেইট নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ ৯ মাস পর সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে ভাঙা স্থানটি মেরামতের জন্যে ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
 
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্টরা ব্লক দেয়া ও স্লুইস গেইট নির্মাণে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করেই টাকা বরাদ্দের পর তড়িঘড়ি করে নাম মাত্র মাটি কেটে রাস্তা মেরামত করে। সঠিকভাবে সড়কটি মেরামত না করায় পুরোপুরি যানবাহন চলাফেরা করতে পারে না। এতে সাধারণ যাত্রীদের মতো ব্যবসায়ীদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

ভবানীপুর গ্রামের শেখ মোহাম্মদ, মির্জাপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন ও আব্দুল হালিমসহ অনেকেই জানান, সড়কের কাজ করার সময় কোনো সিডিউল টাঙানো হয়নি। সড়কের একেবারে গোরা (নীচ) থেকে মাটি কেটে সড়কটি মেরামত করা হয়েছে। এছাড়াও ভাঙ্গনের আগে সড়ক যে উচ্চতায় ছিল তার চেয়ে এ বছর ৫ থেকে ৭ ফিট সড়ক নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় নাজমুল হক নাহিদ বলেন, গত বছর ভাঙ্গনের স্থানটিতে দায় সারাভাবে মেরামত করা হয়। কয়েক দিন আগে উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানিতে সড়কের কিছু অংশ ধসে গেছে। এ বছরও বন্যায় যে কোনো সময় সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শাহাগোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম জানান, প্রথম বছর একই স্থানে ভাঙ্গনে ৪২ লাখ টাকা খরচ করা হয়। গত বছর সেই স্থানে আবারও ভেঙে যাওয়ায় ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। ওই স্থানে ব্লক ও একটি স্লুইট গেইট নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নিম্নমাণের কাজ করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

নওগাঁর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, সড়কটি যাতে না ভেঙে যায় সে জন্য শনিবার সকাল থেকে শ্রমিক লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী তিন/চার দিনের মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে আশা করা হচ্ছে।

পরপর দুই বছর ভাঙ্গনের স্থানটি মেরামত করার সময় অনিয়ম ও টাকা লুটপাটের প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বন্যায় পানির বেশি চাপ হলে কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, স্থানটি পরিদর্শন করা হয়েছে। রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী ও তা রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আব্বাস আলী/একে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।