নীলফামারীর ১৬ গ্রাম তলিয়ে গেছে
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙন পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উজানের ঢলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১৬টি গ্রামের ভেতর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া এদিন তিস্তার ভাঙনে নতুন করে চরখড়িবাড়ি এলাকার ৮০টি পরিবার এসে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।
ছাতুনামা, ভেণ্ডাবাড়ী, টাবুর চর, জিঞ্জির পাড়া, একতার চর, বাঘের চর, ইউনুছের চর, বাইশ পুকুর, পূর্ববাইশ পুকুর, চরখড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়িসহ আশেপাশের ১৬টি গ্রামের ওপর দিয়ে তিস্তার বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা।
তারা জানান, যাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, তারা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে বানের পানির মধ্যেই গ্রামে চরম কষ্ট করে বসবাস করছে। ওই সব পরিবারকে নিরাপদে নিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে।
গত ১৬ দিনে বন্যায় ইউপি চেয়ারম্যানদের তথ্যমতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও সরকারিভাবে ১ হাজার ১৩২টি পরিবারের তালিকা দেখানো হয়েছে। অবশিষ্ট পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩৮৩টি পরিবারের মাঝে শুকনা খাবারের প্যাকেজ বিতরণ করা হয়। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি চাল, মসুর ডাল, লবণ, সয়াবিন তেল, মুড়ি, চিড়া, চিনি ১ কেজি করে, দেয়াশলাই ও মোমবাতি ১ বান্ডিল। এসব ত্রাণ বিতরণ করেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম।
ডিমলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চন্দ্র রায় জাগো নিউজকে জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত তিস্তার বাঁধসহ উঁচু স্থানে ১ হাজার ১৩২ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, সরকারিভাবে প্রতিটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ত্রাণে কোনো ঘাটতি নেই।
জাহেদুল ইসলাম/এমএএস/এবিএস