সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপরে


প্রকাশিত: ০৫:১২ এএম, ২৯ জুলাই ২০১৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে যমুনা নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। পানি বৃদ্ধি ফলে জেলার নতুন করে আরো ২টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে জেলার মোট ৩৩টি ইউনিয়ন এখন বন্যা কবলিত।

অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধির কারণে সিরাজগঞ্জের ৫ উপজেলার চরাঞ্চলের ৩৩টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে বন্যা কবলিতরা এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

এদিকে, এক সপ্তাহের উপরে বাড়ি ঘরে পানি আসার কারণে অনেকে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ পানির মধ্যে চলাফেরা করার কারণে অনেকের হাতে ও পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। অনেকের শরীরে আবার চুলকানিও হয়েছে। এছাড়াও খাবার পানির সংকট থাকার কারণে ডায়রিয়া তো রয়েছেই।

Sirajganj-Flood

খোকশাবাড়ি এলাকার গৃহবধূ মরিয়ম জানান, কয়েকদিন ধরে বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে। বাড়ি ভেতর কোনো প্রয়োজনে এখান থেকে ওখানে যেতে হলে পানি ভেঙে যেতে হয়। যে কারণে তিনি দিনের ১৫ ঘণ্টাই প্রায় পানির ভেতরেই থাকেন। দিনরাত পানির ভেতর থাকতে থাকতে হাত ও পায়ে ঘা হয়ে গেছে। কোনো মেডিকেল টিম এই গ্রামে আসেননি বলে তিনি জানান।

একই গ্রামের খোরশেদ আলম জানান, বাড়িতে আর কোনো খাবার নেই। এদিকে কোনো ত্রাণ সহায়তা নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। বাড়িতে ৬ জন সদস্যের খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে এখন তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ওয়ালি উদ্দিন জানান, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ৩৩টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের কমপক্ষে সাড়ে ১০ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে।

এছাড়া ১২০০টি বাড়িঘর আংশিক ও পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য ১৩৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার ৫টি উপজেলার বন্যা কবলিতদের মাঝে ২৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরো ত্রাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, যমুনায় অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধির কারণে বাঁধে প্রচণ্ড চাপ পড়েছে। যে কারণে কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি সিকেজ করেছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই সেই সিকেজগুলো মেরামত করা হয়েছে। আরও কোথাও সিকেজ আছে কিনা তাও মনিটরিং করা হচ্ছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

বাদল ভৌমিক/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।