তিস্তায় ভাঙন : তিন হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত


প্রকাশিত: ১১:১৩ এএম, ৩১ জুলাই ২০১৬

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার ভাঙন ও বন্যার কারণে টেপাখড়িবাড়ী ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।

এসব কারণে তিন হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। ভাঙনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের আবাদি জমি, বসতভিটা, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

অপরদিকে বন্যায় ছুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ফরেস্টের চর ও ছাতনাই দুটি গ্রাম বিলীন হয়েছে। এ কারণে ওইসব এলাকার শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ।

তিস্তার বাঁধসহ উঁচু স্থানে টেপাখড়িবাড়ীর ১ হাজার ৩৫২টি পরিবার ও ঝুনাগাছ চাপানির ৩০৬টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বলে শনিবার উপজেলা পরিষদের বন্যা পুনর্বাসন তথ্যকেন্দ্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

tista

তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি কিন্ডার গার্ডেন বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়েছে।

অপরদিকে ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের দুটি এলাকার রাস্তা-ঘাট ও পুল কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। ওই ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী, মধ্য খড়িবাড়ী, একতার চর, টাবুর চর, জিঞ্জিরপাড়াসহ ১০টি গ্রামের তিস্তার ভাঙনে ১ হাজার ৩৫২টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন জানান, বন্যায় বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব বিলীন হতে বসেছে। বিদ্যালয়টির অধিকাংশ ক্লাসরুম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ৪৭২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও এক মাস থেকে তাদের পাঠদান দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

টাবুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছেদ জানান, তার বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে বিদ্যালয়টি কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। গত এক মাস থেকে ৩১৮ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি তিস্তার বন্যার শুরুতেই বন্যার পানি ও ভাঙনে বিদ্যালয়ের দুটি ভবন ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৪৪৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

চরখড়িবাড়ী বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি বেশিভাগ অংশ বিলীন হওয়ায় ৪৪০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, টেপাখড়িবাড়ীর ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় বন্যার কোমর পানিতে তলিয়ে ও ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রাস্তঘাট ও বিদ্যালয় তলিয়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা পাঠদান নেয়ার জন্য বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

Tista-Photo

ছাতুনামা ও ফরেস্টের চরের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি নেমে গেলেও পরিবারগুলো নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পূর্ব বাইশপুকুরে আশ্রয় নেয়ায় এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
 
ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বন্যা ও ভাঙনের কারণে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ছয়টি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হাঁটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছারা এসব এলাকায় অধিকাংশ পরিবার তিস্তার বাঁধসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বাঁধসহ উঁচু স্থানের পাশে বিদ্যালয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের আনার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব জাগো নিউজকে বলেন, বন্যায় টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, টেপাখড়িবাড়ীর ছয়টি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিস্তার বাঁধসহ যেসকল এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় শিক্ষা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।