ত্রাণের জন্য হাহাকার


প্রকাশিত: ০৩:২৬ এএম, ০১ আগস্ট ২০১৬

নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বানভাসি সাড়ে ৬ লাখ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বরং বিরাজ করছে খাদ্যের জন্য হাহাকার।

সরকরি ত্রাণ সরবরাহ অপ্রতুল। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্র, বাঁধের রাস্তা ও উচুঁ স্থানে আশ্রিতরা এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। ফলে খোলা আকাশের নিচে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।  

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, রোববার পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপরে এবং কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফলে বন্যার্ত মানুষের কষ্ট কমেনি।

Kurigram-Flood-pic

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, প্রায় ২ সপ্তাহ থেকে বাড়িঘর পানিতে ডুবে আছে। ত্রাণ পায়নি এখনও প্রায় ৬ হাজার মানুষ। ত্রাণের জন্য মানুষের হাহাকার। বানভাসি মানুষের ভয়ে অনেক সময় গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হয়। এ পর্যন্ত ২৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিক মন্ডল ও হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, চাহিদা মোতাবেক ত্রাণ না পাওয়ায় চরাঞ্চলে খাদ্য সংকট বিরাজ করছে। ২ সপ্তাহেও ত্রাণ পৌঁছেনি অনেক পরিবারে। তারা খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

জেলা বন্যা কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব মোল্লা জানান, জেলার ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে প্লাবিত হয়েছে ৭২৮টি গ্রাম। বন্যায় ১ হাজার ১৪৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পানিতে ডুবে আছে। ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৮৬টি পরিবারের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ বন্যার দুর্ভোগে পড়েছে।

বন্যায় ৫৩ কিলোমিটার বাঁধ ও ৩৯টি ব্রিজ নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫১ দশমিক ৫০কিলোমিটার পাকা ও ৪৭৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২২৮টি। এছাড়াও নদী ভাঙন ও জলমগ্নের কারণে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৮৬ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক হাজার ৭৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

Flood-Pic
 
রৌমারীতে বন্যার ভয়াবহ অবস্থার কারণে প্রশাসন প্রথমে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার পর তা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু বর্ন্যা দুর্গতরা পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ায় তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। গত ১৪ দিনে কাজ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে হতদরিদ্র মজুরেরা। ঘরে খাবার নেই। জ্বালানি, মরিচ, লবণ তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অভাব দেখা দিয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ী থেকে বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম, প্রাণকৃষ্ণ, পূর্ব ধনিরামের সঙ্গে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানিমাছকুঠি, ভুরিয়ারকুঠি, নন্দিরকুঠি গ্রামের শত শত পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

উপজেলার গোরকমন্ডল, চর গোরকমন্ডল, পেছাই, পশ্চিম ফুলমতি, কিশামত শিমুলবাড়ী, রোশন শিমুলবাড়ী, সোনাইকাজী, যতিন্দ্র নারায়ণ, কবিরমামুদ, রামপ্রসাদ, প্রাণকৃষ্ণ, চন্দ্রখানা, পশ্চিম ধনিরাম, পূর্ব ধনিরাম, মেকলি, বড়লই, বড়ভিটা, চর বড়লই, খোচাবাড়ী ও রাঙ্গামাটি গ্রামের সড়কগুলো ভেঙে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
     
অপ্রতুল ত্রাণ বিতরণেও নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান মেম্বাররা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ও কাছের মানুষদের ত্রাণ দিচ্ছেন। একই ব্যক্তিকে একাধিকবার ত্রাণ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। দেয়া হচ্ছে ওজনে কম। ফলে ত্রাণ গ্রহীতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সেই সঙ্গে ত্রাণ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার বানভাসি মানুষ।
    
রোববার চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়ন ও নয়ারহাট ইউনিয়নের দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণে গিয়ে বঞ্চনা ও অনিয়মের অভিযোগ শোনেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী। উপকার ভোগীদের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ জানানো হয়।

Flood-pic
    
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হকের বিরুদ্ধে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন মেম্বার নুর মোহাম্মদ ডন ও সংরক্ষিত নারী মেম্বার কাঞ্চন মালা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আব্দুল লতিফ খানের কাছে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ দেন।

নাজমুল হোসেন/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।