ঝিনাইদহে হাজারো পরিবারে স্বচ্ছলতা এনেছে কুঁচে


প্রকাশিত: ০৬:৪৭ এএম, ০৩ আগস্ট ২০১৬

ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার হাজারো পরিবারে কুঁচে শিকার ও ব্যবসা করে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে কালীগঞ্জ উপজেলার বেজপাড়া, বাইসা, খালকুলা, বাদুরগাছাসহ ঝিনাইদহে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই হাজার পরিবার কুঁচে শিকার ও ব্যবসায় স্বচ্ছলতা পেয়েছে।

কুঁচে ব্যবসায়ীদের মতে, ঝিনাইদহে শিকারি ও ব্যবসায়ী মিলে কম পক্ষে ৫ হাজার লোক এই পেশায় জড়িত।

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কুঁচে শিকার করা গয়া দাস বলেন, ‘শুধু আমি নয় এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সুদে ঋণে জর্জরিত হয়ে তাদের সহায় সম্বল সব হারিয়েছিল। বর্তমানে কুঁচে শিকার করে ঋণ থেকে মুক্তি পেয়েছে অনেকে। এ গ্রামে সুদে ঋণগ্রস্ত লোক এখন আর তেমন নেই।’

জেলার একই উপজেলার কুঁচে শিকারি দিপক ও কিশোর জানান, তারা ঝিনাইদহ জেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কেজুলি বিল, কোটচাঁদপুর উপজেলার দোপিলা, সদর উপজেলার গাড়াগঞ্জ, যশোর বাস টার্মিনালের পাশের জলাভূমি, বরিশালের বিভিন্ন হাওর ও বিল থেকে কুঁচে শিকার করেন।

এছাড়া কুষ্টিয়ার কুমারখালি, যশোরের কেশবপুর, চৌগাছা, বসুন্দিয়া, খুলনার ফুলতলা, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার জলাবদ্ধ অঞ্চল থেকেও কুঁচে শিকার করে। কুঁচে সাধারণত হাত দিয়েই ধরা হয়। তবে বর্ষা মৌসুমে বড়সি ও চাই নামে বাঁশের তৈরি এক ধরনের যন্ত্র দিয়ে কুঁচে শিকার করা হয়।

কালীগঞ্জ ও শৈলকুপার কয়েকজন কুঁচে শিকারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঝারি সাইজের প্রতি কেজি কুঁচে ১৪০টাকা থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে শীত মৌসুমে কুঁচের সাইজ বেশ বড় হয়। এ সময় কেজি প্রতি কুঁচে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে সিজেনে জনপ্রতি প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়।

kaliganj

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কুঁচে ব্যবসায়ী বিপুল দাস, বেজপাড়া গ্রামের গনি দাস, তোতা দাস, যাদব দাস, রিপন দাস, শংকর দাস ও দেবেন দাস জানান, ঝিনাইদহ জেলা থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০ টন কুঁচে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার আড়তদাররা দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কুঁচে সংগ্রহ করে তা চীনে পাঠায়।

তারা দাবি করেন, কুঁচে রফতানির মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিতে প্রতি বছর যোগ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

শৈলকুপার কুঁচে ব্যবসায়ী কুমার বিশ্বাস জানান, ‘বছরের আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন এই চার মাস অফ সিজেন। এ সময় কুঁচে তেমন পাওয়া যায় না। অফ সিজেনে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার দাবি করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সাইদুর রহমান রেজা বলেন, উপজেলায় কুঁচে শিকারির সঠিক পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। এ পেশাজীবীদের জন্য কাঁকড়া ও কুচিয়া নামে সরকারের একটি প্রোজেক্ট আছে। এমন একটি প্রোজেক্ট এই উপজেলায় চালু করার জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করবেন।  

আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।