না.গঞ্জে পুলিশ নিহত : কাউকে অহেতুকভাবে হয়রানি নয়


প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০১৬

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে পান দোকানদার ও পুলিশের কনস্টেবলের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় কাউকে অহেতুকভাবে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন ঘটনার তদন্তে আসা পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) মোহাম্মদ আলী মিয়া।

শনিবার সকালে সোনারগাঁ পৌরসভার রাইজদিয়া গ্রাম পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অতিরিক্ত ডিআইজি।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) ফোরকান শিকদার, সোনারগাঁ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের প্রমুখ।

সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নারী কাউন্সিলর জায়েদা আক্তার মনির বাড়ির উঠানে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন ডিআইজি। এ সময় নিহত আবদুল মতিনের স্ত্রী নূরতাজ বেগম, মেয়ে শিউলি আক্তারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় এলাকার লোকজন শুরুতেই নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ তোলেন। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ যাওয়ার কারণেই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তারা।  

স্থানীয়রা জানায়, পুলিশ পোশাক পরা থাকলে এ ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। এছাড়া মোটরসাইকেলে যে এএসআই সেই এএসআই ফখরুলের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। লোকজন আবদুল মতিনকে ভালো লোক হিসেবে আখ্যায়িত করে মামলায় কেন তাকে মাদকাসক্ত বলা হয়েছে তার ব্যাখা চাইতে গেলে শুরু হয় হৈ চৈ।

এলাকাবাসী জানায়, মামলার কারণে তিন গ্রাম পুরুষশূন্য। আবদুল মতিনের পরিবারের পুরুষরা জানাজায় অংশ নিতে পারেনি।

পরে পুলিশের ডিআইজি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন। মামলায় আসামি করা হলেও অহেতুক কাউকে এখানে হয়রানি করা হবে না। তদন্তের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। তদন্ত করে যদি কোনো পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ হয়, তাহলে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না।

সোনারগাঁ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, ডিআইজি স্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরাও এলাকার লোকজনদের ঘরে গিয়ে নিশ্চিত করেছি যে, কাউকে অহেতুক হয়রানি করা হবে না। গ্রামছাড়া পুরুষরা যেন গ্রামে ফিরে আসে সে কথাও তাদের বলেছি।

প্রসঙ্গত, গত ২ আগস্ট বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার রাইজদিয়া গ্রামে আবদুল মতিন নামের এক পান দোকানদারকে মাদক বিক্রেতা আখ্যা দিয়ে ধাওয়া করলে তিনি পানিতে ডুবে মারা যান। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশের কনস্টেবল আরিফুরকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। তবে পুলিশ আবদুল মতিনকে মাদকাসক্ত উল্লেখ করে মামলা করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দুজনেরই মৃত্যু আঘাতজনিত কারণে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

শাহাদাত হোসেন/এএম/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।