স্বরূপে ফিরেছে টেকনাফ স্থল বন্দর


প্রকাশিত: ০৭:৩৭ এএম, ০৯ আগস্ট ২০১৬
ফাইল ছবি

গত অর্থবছরের শেষ তিন মাসের রাজস্ব আদায়ের ধস কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে দেশের দক্ষিণ সীমান্ত টেকনাফ স্থল বন্দর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঠিক করা লক্ষ্যমাত্রার বেশি রাজস্ব আদায় করে বন্দরে ফিরে এসেছে পূর্বের স্বকীয়তা। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রথম মাসে সব মিলে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩০১ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

টেকনাফ স্থল বন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, এনবিআর ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৭৬টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে শুধু কাস্টমস খাতেই রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা বেশি। সব মিলে রাজস্ব আয় হিসাব করলে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৩০১ টাকা বেশি আয় হয়েছে।

ঈদের ছুটি, অতি বর্ষণ ও বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আমদানিকারক এবং ব্যবসায়ীদের আন্তরিকতা ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

জুলাই মাসে টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৫ টাকা মুল্যের পণ্য মিয়ানমার থেকে দেশে আমদানি হয়েছে। তার মধ্যে ১৭ কোটি ৮৯ লাখ ৭৯ হাজার ১২৬ টাকা মূল্যের পণ্য শুল্কযুক্ত এবং ২৭ লাখ ১০ হাজার ১২৯ টাকা মূল্যের পণ্য ছিল শুল্কমুক্ত।

এদিকে, উক্ত মাসে ২৩টি চালানে ৭৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের বাংলাদেশি ২৬ আইটেমের পণ্য টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে মিয়ানমারে রফতানি হয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর জুলাই মাসে শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে ৩৪৯টি গরু এবং এক হাজার ৪২টি মহিষ আমদানি হয়েছে। প্রতিটি পশু থেকে ৫০০ টাকা হিসেবে সরকার এ খাতে ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে।

অন্যদিকে, টেকনাফ স্থল বন্দরে রয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে বহির্গমন ইমিগ্রেশন পয়েন্ট। উক্ত পয়েন্ট দিয়ে জুলাই মাসে ৪১২ জন বাংলাদিশী ভ্রমণ করেছেন মিয়ানমার। জনপ্রতি ৮০০ টাকা হিসেবে সরকার এ খাতে রাজস্ব আয় করেছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ টাকা।

অপরদিকে, স্থলবন্দরে গত জুন মাসে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ৮ কোটি ৪০ লাখ ৫৬০ টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থাকলেও আদায় সম্ভব হয়েছে ৭ কোটি  ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৪৭ টাকা। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে  ১ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার ১৫৩ টাকা কম আদায় হয়।

তেমনিভাবে এপ্রিল মাসেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায় আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। যা টার্গেটের তুলনায় ১ কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮২৪ টাকার কম। একইভাবে মে মাসেও ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রায় আদায় হয়েছে সোয়া ৬ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আদায় হয় ১ কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৫৩২ টাকা।

টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক কর্মকর্তা নু-চ-প্রু মার্মা জানান, জুন মাসে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি কম হওয়ায় মাসিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এখন আমদানি-রফতানি স্বাভাবিক থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে। ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।  

উল্লেখ্য, টেকনাফ স্থল বন্দরটি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পয়েন্ট। আমদানি ও রফতানি পণ্যের তালিকায় নিত্য যুক্ত হচ্ছে নতুন আইটেম। স্বল্প পরিসরের হলেও প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে জাতীয় রাজস্বে উল্লে­খযোগ্য অবদান রেখে আসছে বন্দরটি।

সে তুলনায় বিরাজমান বহুমুখী সমস্যার সমাধান হয়নি। শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোরেরও কোনো ধরনের উন্নয়ন হয়নি। সম্ভাবনাময় টেকনাফ স্থল বন্দর ব্যবহারকারীদের এবং বন্দরের সমস্যাগুলো নিরসন করা হলে বন্দর
ব্যবহারকারীরা আরো উৎসাহী হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সায়ীদ আলমগীর/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।